সুন্দরবনে ৩ ডাকাত অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) :
| আপডেট: ৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম | প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
সুন্দরবনে ৩ ডাকাত অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনের আতঙ্ক বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। একই সময় তাদের হাতে জিম্মি থাকা এক জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় এই আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আত্মসমর্পণকারী তিন ডাকাত হলেন - বাগেরহাটের মোংলা থানার বাসিন্দা আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা থানার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা থানার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তারা দীর্ঘদিন ধরে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

আত্মসমর্পণকালে তারা ২টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেয়। উদ্ধার হওয়া জিম্মি জেলেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে "অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন" এবং "অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড" নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪২ জন বনদস্যু গ্রেপ্তার এবং দস্যুেদর হাতে জিম্মি ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর সহযোগীসহ মোট ৭ সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এই চাপের মুখেই বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ব্রিফিং প্রদানকারী কর্মকর্তা বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মোঃ মানসুরুন মাহ্দীন (এনডি, পিএসসি, বিএন) জানান, সুন্দরবনে যেসব দস্যু স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ইচ্ছুক, আত্মসমর্পণের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, যারা অপরাধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত 'জিরো টলারেন্স' নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে