কুড়িগ্রামে জামাই হত্যা মামলায় শ্রীঘরে শ্বশুর-শ্যালিকা

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ১২ জুলাই, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জামাই হত্যা মামলায় শ্রীঘরে শ্বশুর-শ্যালিকা

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দাম্পত্য কলহের জের ধরে জামাইকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শ্বশুর ও শ্যালিকাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন এমতাজুল(৫০) এবং রুনা আক্তার(৩০)। এজাহারে বলা হয়,পারিবারিক ও দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে জামাই-শ্বশুড়ের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।  এরই জের ধরে গত ২৬ জুন মোবাইল ফোনে ডেকে এনে তাঁর ছেলে ফুল মিয়াকে রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের রতিরাম পাঠানপাড়া (চেংপাড়া) এলাকায় নিয়ে এসে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাঁকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে  তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তাঁর মেরুদ-ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে বাদী খুল্লনা বেগমকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর গলায় থাকা আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ টাকা মুল্যমানের প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় হামলা, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের দরিচর পাঁচপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খুল্লনা বেগম গত ৯ জুলাই  ফুল মিয়ার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালিকা ও ভায়রাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার একদিন পর গত ১০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুল মিয়ার মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, একই দিন সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে ফুল মিয়ার শ্বশুর এমতাজুল(৫০) ও শ্যালিকা রুনা আক্তার(৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ বলেন, "আগের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুড়িগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মাসুদ রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে