মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীর বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দপ্তরীর নাম মো. আলমগীর হোসেন সরদার (৪২)। তিনি লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত আছেন। রবিবার (১২ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে লৌহজং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা জানান, দপ্তরী আলমগীর সরদার তার চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে মুঠোফোনে কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখায়। পরবর্তীতে সে ছাত্রীকে ঠিক একইভাবে নিজের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে দপ্তরীর ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এর আগে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি (ব্যাড টাচ) করা হয়েছিল বলেও জানান তার মা।
আরও জানান, অভিযুক্ত দপ্তরী ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে যে, সে যদি তার কথামতো ছবি ও ভিডিও না পাঠায়, তবে তাকে ‘রামিছা’র মতো হত্যা করা হবে। এই হুমকির পর থেকে অবুঝ শিশুটি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে বলে জানান। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি প্রথমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা অভিযুক্ত দপ্তরীর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় নিরুপায় হয়ে পরিবারটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) দ্বারস্থ হয়। পরবর্তীতে ইউএনও বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে লৌহজং থানায় পাঠান। ছাত্রীর মায়ের দাবি এই ঘটনার পর থেকে তার পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক রেশমা আখতার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হলে স্যার বিষয়টি তদন্ত করছে। বিষয়টি জানাজানির পর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন সরদার পলাতক রয়েছে। লৌহজং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনায়েতুর রহমান বলেন, আমি আজ ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি, আমি তাৎক্ষণিকভাবে এটিও সাহেবকে ঘটনানা স্থলে পাঠিয়েছি। বিষয়টি খুবই ন্যাক্কারজনক। তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের দপ্তরীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত লম্পট দপ্তরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।