মাত্র ১০০ মিটার একটি ড্রেন। এতটুকু অবকাঠামোর অভাবেই বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কুলিয়া তালুকের মাঠ সংলগ্ন জামে মসজিদ মহল্লার অর্ধশতাধিক পরিবারের। বর্ষা এলেই ঘরের আঙিনা, রান্নাঘর, গোয়ালঘর এমনকি কোথাও কোথাও বসতঘরের মেঝেতেও জমে থাকে পানি। জলাবদ্ধতার সঙ্গে যেন তাদের জীবনযুদ্ধেরও কোনো শেষ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে এলাকার একটি সড়ক উঁচু করে পাকা নির্মাণের পর থেকে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে পাশের খালে যেতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো মহল্লা পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ চললেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
কুলিয়া তালুকের মাঠ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আরজ আলী শিকদার (৬৫) বলেন, “আমাদের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসার মতো সচেতন কেউ নেই। একটি ছোট্ট ড্রেন না থাকায় আমরা বছরের পর বছর কষ্ট করছি। বর্ষাকালে প্রায় সবার উঠানে পানি জমে থাকে। অনেকের রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে পানি উঠে যায়, কোথাও কোথাও ঘরের মেঝেতেও পানি ঢ়ুকে পড়ে। ছোট-বড় সবাইকে নোংরা পানি মাড়িয়ে চলাফেরা করতে হয়। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদেরও জলাবদ্ধতা পেরিয়ে যেতে হয়। শিশুদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপই হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।”
একই মহল্লার প্রবীণ বাসিন্দা ও নিয়মিত মুসল্লি মোতালেব মোল্লা (৮৫) বলেন, “আমাদের কষ্টের শেষ নেই। সামান্য একটি ড্রেন নির্মাণ হলেই পানি খালে নেমে যাবে, আর এই ভোগান্তি থেকে আমরা মুক্তি পাব।”
স্থানীয়দের মতে, মাত্র প্রায় ১০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হলে বৃষ্টির পানি সহজেই পাশের খালে প্রবাহিত হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটবে। এতে অর্ধশতাধিক পরিবারের পাশাপাশি জামে মসজিদে আসা মুসল্লি, শিশু শিক্ষার্থী ও পথচারীরাও স্বস্তি ফিরে পাবেন।
বর্ষা নামলেই যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নের গল্প শোনা যায়, তখন কুলিয়া তালুকের মাঠ জামে মসজিদ মহল্লার মানুষ এখনো অপেক্ষায়-মাত্র ১০০ মিটার একটি ড্রেনের। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিলে বহুদিনের এই মানবিক সংকটের অবসান ঘটবে এবং এলাকাবাসী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।