সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের খৈচালা গ্রামে গভীর রাতে এক বাড়িতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী ৪ থেকে ৬ জনের একদল দুর্বৃত্ত বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারধর ও লুটপাট চালিয়েছে। এ সময় প্রাণনাশ ও ধর্ষণের হুমকি দিয়ে পাশের বাড়ি থেকে ডেকে আনা এক নৈশপ্রহরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে খৈচালা গ্রামের ভ্যানচালক ছাইদুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত নৈশপ্রহরী মো. আকতার হোসেন স্থানীয় খৈচালা আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ৪ থেকে ৬ জনের মুখোশধারী একটি দল ছাইদুল ইসলামের বাড়ির বাইরের বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দেয়। বাতি নেভানো দেখে ছাইদুল ইসলামের স্ত্রী দরজা খুললে দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে। পরে তারা ছাইদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে বেঁধে জিম্মি করে।
ডাকাতরা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা দাবি করে। চাহিদামতো টাকা ও গয়না না পেয়ে তারা পরিবারের সদস্যদের মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে পরিবারের নারী সদস্যদের ধর্ষণ এবং সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে পাশের বাড়ির বাসিন্দা ও নৈশপ্রহরী আকতার হোসেনকে মোবাইল ফোনে ডেকে আনতে বাধ্য করে।
আকতার হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে লুটপাট করে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
পরে স্থানীয়রা আহত আকতার হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।