রাজশাহীর তানোরের কলমা (ইউপি) বকরিডাঙা অমৃতপুর আদিবাসী (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) পল্লীর সরকারি খাস ও ভিপি সম্পত্তির দুটি পুকুর জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। দরগাডাঙা হাট এলাকার বিএনপি নেতা জয়েন মন্ডল তার লোকজন নিয়ে এসব পুকুর জবরদখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে । এনিয়ে পল্লীর বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুকুর দুটি জনস্বার্থে ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের কথা বলা আছে। কোনো অবস্থাই পুকুর দুটি বহিরাগতদের কাছে ইজারা দেয়া যাবে না। জানা গেছে, উপজেলার জেল নম্বর-১৭, অমৃতপুর মৌজায়, খতিয়ান নম্বর ০১ ও ১৬১,দাগ নম্বর ১১৬ ও ৯৪,পরিমাণ ১,১৭ কাতের ০,৩৭ একর ও ০,৫৮ কাতের ০,১৯ একর আয়তনের দুটি পুকুর রয়েছে।এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লীতে প্রায় ৮০টি পরিবার বসবাস করছেন।পল্লীর বাসিন্দারা দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই বংশপরম্পরায় তারা ইজারা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পুকুর দুটি ভোগদখল করে আসছেন।
এদিকে পল্লীর বাসিন্দাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এফএইচ এসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে ও ফারওয়ে আইল্যান্ডের অর্থায়নে 'বরেন্দ্র অঞ্চলে জীবিকা ও পুষ্টি উন্নয়ন টেকসই মৎস্যচাষ প্রকল্প'এর মাধ্যমে এসব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোণা অবমুক্ত করা হয়। এমনকি পল্লীর এসব উপকারভোগীদের কাছে থেকে ১০ শতাংশ করে টাকা নিয়ে পুকুর দুটি পুনঃখনন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মর্জিনা টুডু, নির্মল টুডু ও সোনাতন হেমরম অভিযোগ করে বলেন, দরগাডাঙা এলাকার জয়েন মন্ডল তার লোকজন নিয়ে পুকুর দুটি জবরদখলের চেস্টা করছে। এমনকি পুকুর দখলে বাধা দিলে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করানোর হুমকি দিচ্ছেন।এতে তারা চরম নিরাপত্তা হীনতায় রয়েছেন।তারা বলেন, আবারো পুকুর ইজারা নেয়ার জন্য তারা ভুমি অফিসে আবেদন করেছেন। কিন্ত্ত রহস্যজনক কারণে ভুমি অফিস থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টো পুকুর পাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের কোনো বসতবাড়ি নাই বলে মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদের ৮০টি পরিবারের কাছে থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করে জয়েন মন্ডলকে দিতে বলা হয়েছে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাজির সাহেবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।