মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণের দায়ীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে, যা জাতি মনে রাখবে

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) :
| আপডেট: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম | প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণের দায়ীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে, যা জাতি মনে রাখবে
জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হবে, যা জাতি চিরকাল মনে রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, "প্রত্যেকটা জুলাই আন্দোলনে যে ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্মমভাবে গুলি করেছে, ঝাঁঝরা করে দিয়েছে চৌদ্দশ মায়ের বুক, তাদেরকে কোনোভাবেই আমরা ক্ষমা করব না। প্রত্যেকটি আসামি, প্রত্যেকটি ফ্যাসিস্টের দোসরকে আমরা আইনের আওতায় এনেছি, আনব। তাদের বিচার এমন দৃষ্টান্তমূলকভাবে করব যে সারা জাতি চিরকাল ধরে মনে রাখবে।"

তিনি বলেন, "আজকে আবু সাঈদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম—এই ১৬ জুলাই ফ্যাসিস্টদের ঝাঁঝরা গুলিতে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য।"

তিনি আরও বলেন, "আবু সাঈদের শাহাদাতের পর ১৭ জুলাই থেকে যেভাবে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, যেভাবে সারা জাতি আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তারই পরিণতি ৫ আগস্টের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান।"

মন্ত্রী বলেন, "ঐতিহাসিক ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যেমন ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, তেমনি আমরা ফিরে পেয়েছি আমাদের গণতন্ত্র। জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও নির্বাচিত সংসদ পেয়েছি। এই সরকার ও সংসদের মধ্য দিয়েই আমরা আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। বঞ্চিত রংপুরকে আলোকিত করব, আর রংপুরকে আলোকিত করার পাশাপাশি সারা বাংলাদেশকে উন্নয়নের আলোয় আলোকিত করব। এটি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যেই সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে।"

জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন ও পুরোনো প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা দিনরাত কাজ করছি। জুলাইয়ের চেতনাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছি। এই জুলাইয়ের চেতনার মধ্য দিয়েই আমরা জাতিকে এগিয়ে নেব, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করব এবং জুলাইয়ের চেতনাকে চিরজাগ্রত রাখব।"

বিচার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন বিচার করতে চাই, যেন ফ্যাসিস্টদের মতো বিচারের নামে কোনো প্রহসন না হয়। একটু দেরি হলেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী, প্রকৃত ফ্যাসিস্ট ও প্রকৃত অপরাধীর বিচার করা হবে। একজন নিরপরাধ ব্যক্তিও যেন কোনোভাবে নিগৃহীত না হন, সেই বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত করব।"

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "আজই আমি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জানিয়েছেন, গত বছর কে বা কারা একটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছে, যেখানে কোনো নাম-পরিচয় নেই। এটি বিভ্রান্তিকর। তাই ঢাকায় ফিরে দ্রুত নতুন করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করব এবং স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করা হবে। কারণ আবু সাঈদ আমাদের চেতনার প্রতীক, আমাদের আন্দোলনের একজন অগ্রসেনা।"

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা (ফেন্সী), রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে একদিনের সফরে রংপুরে এসে মন্ত্রী প্রথমে রংপুর জেলা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জেলা প্রশাসন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। বিকেল ৩টায় তিনি শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে