সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার বড় ধরনের বিভ্রাট ঘটেছে। ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের হাতে ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর ভুল ধরা পড়লে সেই প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীবৃন্দ ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, আজ ১৬ জুলাই ভূগোল প্রথম পত্রের পরীক্ষা ছিল। আর দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা আগামী ১৮ জুলাই। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর পর পরীক্ষার্থীদের প্রথম পত্রের বদলে দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্ন দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা প্রায় ১৫-২০ মিনিট ধরে সেই প্রশ্নেই উত্তর লিখে ফেলে। পরে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নজরে ভুলটি এলে তারা দ্রুত প্রশ্নপত্রগুলো পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে তুলে নেয়।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানায়, এমসিকিউ প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নেওয়ার পর সঠিক প্রশ্ন সরবরাহে বিলম্ব ঘটে। এর মধ্যে পরীক্ষার সৃজনশীল (সিকিউ) অংশের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হলে দেখা যায়, সেটিও চলতি বছরের নয়, বরং ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্নপত্র। কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটিও পরিবর্তন করে অবশেষে সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কারণে পরীক্ষার্থীদের যে সময় নষ্ট হয়েছিল, তা পুষিয়ে দিতে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা শেষে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রে মোট চারটি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছেন। এই ঘটনার পর পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা) রিপন বিশ্বাস জানান, প্রশ্নপত্র বাছাই করার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের অসাবধানতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, "ঘটনাটি শিক্ষা বোর্ডকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।" যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম জানান, খবর পেয়েই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড থেকে তাঁকে কেন স্থায়ী প্রশাসনিক শাস্তির আওতায় আনা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হবে। যেহেতু ১৮ জুলাইয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস বা উন্মুক্ত হয়ে গেছে, তাই ভূগোল দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করা হবে কি না-তা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান চেয়ারম্যান।