বিরোধী দলের এমপি বেশি থাকায়

উত্তরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন বাজেট কমানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
উত্তরাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন বাজেট কমানো হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, "উত্তরাঞ্চলে অধিকাংশ সংসদ সদস্য বিরোধী দলের হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে কুড়িগ্রাম-রংপুরসহ এ অঞ্চলের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।" বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাইহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে 'কৃষকের শক্তি, জাতীয় মুক্তি' স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি জাতি চিরঋণী। তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ বাহিনীর গুলিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। দু'হাত প্রসারিত করে আবু সাঈদ যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আবু সাঈদ ছিলেন একজন কৃষকের সন্তান। একইভাবে ওই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অনেকেই কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন। তাই কৃষকের কষ্ট, সংগ্রাম ও বাস্তবতা তারা হৃদয় থেকে উপলব্ধি করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ হলেও কৃষকরা আজও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। কৃষকদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার মতো শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠনের অভাব রয়েছে। যেসব সংগঠন রয়েছে, তাদের অনেকেই কৃষকের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য এখনও দূর হয়নি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার নানা উদ্যোগের কথা বললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, "উত্তরাঞ্চলের মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই তাদের ভোটাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার ও উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।"

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে সোচ্চার থাকবে এনসিপি। সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, দেশের কৃষকরা এখনও বাজার ব্যবস্থায় বৈষম্যের শিকার। উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি বলেন, "এই দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা পার পেয়ে যান, অথচ ১০ বা ২০ হাজার টাকার কৃষিঋণ পরিশোধ করতে না পেরে একজন কৃষক জীবন দিয়ে দেন। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বেদনাদায়ক।" আখতার হোসেন বলেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, কৃষিবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং বাজার ব্যবস্থায় সংস্কার এনে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান মোজাহিদ এমপি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল, সদস্য সচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম, এনসিপির কুড়িগ্রাম জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়াসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে কয়েক হাজার কৃষক, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে টগরাইহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে