বেহুন্দী জাল ও চাঁই দিয়ে পোনা নিধন প্রতিরোধ

মেঘনায় অসময় মিলছে বড় পাঙ্গাস

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
মেঘনায় অসময় মিলছে বড় পাঙ্গাস

বরিশালের হিজলা উপজেলা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুম ছাড়াই ধরা পড়ছে বড় সাইজের দেশীয় পাঙ্গাস মাছ। সাধারণত বছরের এই সময়ে এতো বড় পাঙ্গাস সচরাচর দেখা না গেলেও, গত কয়েকদিন ধরে নদীতে ৫ থেকে ১২ কেজি ওজনের বিশাল বিশাল পাঙ্গাস পাচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। মৎস্য অধিদপ্তরের দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানে বেহুন্দী জাল ও চাঁই দিয়ে পোনা নিধন প্রতিরোধ করার  ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন মেঘনার জেলেরা।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীতে পাঙ্গাসের পোনা ধরার চাই (এক ধরণের ফাঁদ) এবং রাক্ষুসে বেহুন্দী জাল নির্মূলে উপজেলা মৎস্য দপ্তর, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ যৌথভাবে নিরলস অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অবৈধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ করার কারণে নদীতে মাছের বংশবৃদ্ধি ও আকৃতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বাউশিয়া, পুরাতন হিজলা, দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেঘনা নদীতে শতাধিক জেলে এখন বড় ফাঁসের ‘পাঙ্গাসী জাল’ দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জালে একেকটি ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের পাঙ্গাস ধরা পড়ায় জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় বাজারে এই তাজা দেশীয় পাঙ্গাস মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অসময়ে বড় সাইজের মাছ এবং ভালো দাম পেয়ে জেলেরা অত্যন্ত আনন্দিত। বাউশিয়া মাছ ঘাটের জেলে জামাল ব্যাপারী বলেন, মেঘনায় প্রচুর পরিমানে বড় পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। এক একটি জেলে নৌকায় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তরের কঠোর অভিযানের সময় জেলেরা ক্ষিপ্ত হলেও এখন সুফল ভোগ করছেন। মেঘনার জেলেরা প্রতিদিন খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন। 

দুর্গাপুর গ্রামের জেলে অলিউদ্দীন বলেন, নদীতে জাল ফেললে সর্বনিম্ন ৪-৫ কেজি ওজনের পাঙ্গাস পাওয়া যাচ্ছে। অনেক সময় ১২ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ জালে ধরা পড়ছে। প্রায় প্রতিদিন ৫-৬টি মাছ পাওয়া যায়।  এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, 'সাধারণত শীতের সময়ে নদীতে বড় সাইজের পাঙ্গাস পাওয়া যেত। মৎস্য অধিদপ্তরের দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারির কারণে মেঘনা নদীতে গত কয়েকদিন যাবৎ প্রচুর পরিমাণে বড় বড় দেশীয় পাঙ্গাস পাওয়া যাচ্ছে। নদীতে পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই ও রাক্ষুসে বেহুন্দী জাল পুরোপুরি নির্মূল করার কারণেই আজ জেলেরা এই সুফল পাচ্ছেন।' অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান আগামীতেও বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মৎস্য কর্মকর্তা। পোনা মাছ রক্ষায় মৎস্য দপ্তরের এই সফল উদ্যোগের প্রশংসা করছেন স্থানীয় জেলেরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে