রাজশাহীর পবায় বর্ষাকালীন কমিউনিটি বীজ বিনিময় উৎসব

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ২১ জুলাই, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
রাজশাহীর পবায় বর্ষাকালীন কমিউনিটি বীজ বিনিময় উৎসব
রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে বর্ষাকালীন কমিউনিটি বীজ বিনিময় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী স্থানীয় বর্ষা মৌসুমের বিভিন্ন বীজ বৈচিত্র্য উপস্থাপন করেন। অংশগ্রহণকারীদের বাড়িতে সংরক্ষণ করা বর্ষা মৌসুমের বিভিন্ন বীজ বৈচিত্র্য উপস্থাপন করেন। সেখানে ছিল ফল, সবজি ও ঔষধি সহ বিভিন্ন বীজ। অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুসন্ধান মুলক আলোচনা করেন বারসিকের মো: তৌহিদুল ইসলাম। কি কি বীজ জনগোষ্ঠীর কাছে নেই বা হারিয়ে গেছে জানতে চাইলে জানা যায়, দেশি বরবটি, বুনলা, পিরাকল, আমলকি, আতা লেওয়া, বনকাঠাল, গাব, লটকন, বহেড়া, সাদা লজ্জাবতী, লাল কুচকড়ি, বহলা,নিশিন্দা, সাদা জবা, হেলেনচা । এই গাছ গুলো ও বীজ আমাদের এখানে আর পাওয়া যায় না। মোসা: রুবিনা খাতুন বলেন আগে আমরা বাজার থেকে বীজ কিনতে বাধ্য হতাম। এখন নিজেদের সংরক্ষিত দেশীয় বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে ভালো মানের বীজ সহজেই সংগ্রহ করতে পারছি। এতে উৎপাদন খরচ কমছে এবং দেশীয় জাতের বীজ সংরক্ষণও হচ্ছে। মোসা: মুনিরা বেগম বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষদের সংরক্ষিত দেশীয় বীজ হারিয়ে যাচ্ছিল। এই ধরনের উৎসবের মাধ্যমে আমরা আবার সেই বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারছি। এতে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশীয় বীজ সম্পর্কে জানতে পারবে।" বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো: তৌহিদুল ইসলাম বলেন "জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে দেশীয় বীজ অনেক বেশি সহনশীল। তাই এসব বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়ের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা জরুরি।" জনগোষ্ঠীরা নিজেদের সংরক্ষিত বিভিন্ন ধরনের সবজি, ফল,ঔষধি ও অন্যান্য ফসলের বীজ চাহিদা অনুযায়ী একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করেন। পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি, নিরাপদ কৃষি চর্চা এবং জৈব কৃষির বিভিন্ন দিক নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। উপস্থিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বলেন, "বীজ শুধু একটি কৃষি উপকরণ নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। কমিউনিটি পর্যায়ে বীজ বিনিময় উৎসব নিয়মিত আয়োজন করলে কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় বীজের বৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে।" উপস্থিতসকলকে আতা, পেয়ার, আমড়া,জাম, সুপারি চারা প্রদান করা হয়েছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে