মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ তিনদফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন রাজশাহী চিনিকলের শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তারা চিনিকলের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ফটক সভা করেছেন আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তারা নানা কর্মসূচি পালন করবেন।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের দাবিনামা আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগেও এ আন্দোলন চলছে। মঙ্গলবার ফটক সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাসুদ রানা।
শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল চিনিকলে কর্মরত মৌসুমি শ্রমিকদের মধ্যে থেকেই যোগ্য শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবেই স্থায়ী পদে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি পাঁচ বছর কিংবা দশ বছর পর পর পদোন্নতি দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। গত বছরের ১ জুলাই সরকার ঘোষিত ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধার পে-কমিশনের মতো শ্রমিকদের জন্যও মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, চিনিকলে বেশিরভাগ শ্রমিকদের সারাবছর কাজ থাকে না। তারা মৌসুমের কয়েকমাস সামান্য মজুরিতে কাজ করেন। কাজ করতে করতে তারা দক্ষ হয়ে ওঠেন। কিন্তু স্থায়ী পদে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় না। দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে এই শ্রমিকদেরই স্থায়ী পদে নিয়োগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেও শ্রমিকেরা কিছু পাচ্ছেন না। এমন বৈষম্য চলতে পারে না। তাই শ্রমিকদের জন্যও মজুরি কমিশন গঠন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এটি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিনিকলের শ্রমিক শরিফুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- রাজশাহী চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভাদু, সহসভাপতি কামাল হোসেন, সুপারভাইজার তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল খালেক প্রমুখ।