“শেষ মেষ বাড়ি ভিটাটাও তিস্তা নদীত চলি গ্যালো

কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীতে তিন দিনে বিলীন ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীতে তিন দিনে বিলীন ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি

“মনটা খুবই খারাপ, শেষ মেষ বাড়ি ভিটাটাও তিস্তা নদীত চলি গ্যালো। কারো একনা জাগা পাইলে ঘর তুলি থাকনু হয়। বাপের  দেড়একর (৬ দোন) জমি ছিল, সব নদী খায় গ্যাছে। বাড়িভিটা আছিল তাও আজ গেল।” আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিন বিকালে  কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামে নদী ভাঙনের দৃশ্য দেখতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মাঈদুল ইসলাম(৩৫)এর সর্বস্ব হারানোর বেদনায় এসব কথা বলেন।   তিস্তার পানি কমার সাথে সাথে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত তিনদিনে প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে স্কুলসহ প্রায় ২ শতাধিক বাড়ি ঘর।

নদী ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৬হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তীব্র নদী ভাঙনে বেশীরভাগ জিও ব্যাগ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চর বিদ্যানন্দও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম দু'টি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। দ্রুত প্রতিরোধের জন্য সরকারের নিকট দাবী জানিয়েনে স্থানীয়রা।    

উপজেলার  বিদ্যানন্দ ইঊনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম ঘুরে দেখা  যায়,  প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে রক্ষা পায়নি  মসজিদ, বাড়ি-ঘর, হাজার হাজার গাছপালা ও ফসলি জমি।  

চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রবল ও বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কমার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়।  মুহুর্তের মধ্যেই নদীর প্রবল -্রােতে  ও বাতাসের কারণে কিছুক্ষণ পর পর ফসলি জমি ও ঘর বাড়ি  নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নিলেও জি ব্যাগ ফেললো সে গুলো বিলিন হযে যাচ্ছে।  ইতো মধ্যে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁর  মাঈদুল ইসলাম(৩৫), ইয়াকুব আলী(৪৫), মখলেছ(৩০), ফকরুল(৪০), শফিকুল (৩০), হাজির উদ্দিন(৫০), নাজির উদ্দিন(৪০), হান্নান(৩৫), রবিউল(৪০), সোনা মিয়া(৪৫), আব্দুল লতিফ(৪০), মমিনুল (২৫)সহ প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়।  

চর বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, গত ২ দিনে আমাগো চর বিদ্যানন্দ গ্রামের ২০টি  ঘরবাড়ি নদীত চলি গেইছে।  আমগো একটাই মসজিদ ছিল, সবাই মিলি নামাজ পড়তাম, সেই মসজিদ ও আমাগো বাড়ি সবই নদী খায়া নিলো।  এহন যামু কই।   তৈয়বখাঁ গ্রামের মমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়িঘর ভাইংগা এহন খোলা আকাশের নীচে বৌ ছাওয়াল লইয়া কষ্ট কইরা আছি।   আমাগো দেহি কেউ দেহে না। যেভাবে নদী ভাংতাছে তাতে করি আমাগোও থাকবো না।  

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম জানান, আমি ইতি মধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা গুলোতে পরিদর্শন করে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে  ভাঙন প্রতিরোধে আরও  জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে