মেহেরপুরসহ খুলনা বিভাগের স্কুল কলেজে এডহক কমিটি অনুমোদন বন্ধ

এফএনএস (ফারুক আহমেদ; মেহেরপুর) : | প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
মেহেরপুরসহ খুলনা বিভাগের স্কুল কলেজে এডহক কমিটি অনুমোদন বন্ধ

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেরঅধীনস্থ প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এডহক (অন্তর্বরতীকালীন) পরিচালনা কমিটি অনুমোদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রশাসনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

এর ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও বাস্তবে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। এতে একদিকে ইউএনওদের ওপর বাড়ছে অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ, অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন সাপেক্ষে বিদ্যালয়ের এডহক পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে যশোর শিক্ষা বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদ্যালয় পরিচালনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সময়মতো নেওয়া যাচ্ছে না। জানাগেছে,যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বর্তমানে ১,৮৭০টি স্বীকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩১০টি স্বীকৃত কলেজ, ১২৭টি অস্থায়ী স্বীকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৭৪টি অস্থায়ী স্বীকৃত কলেজ রয়েছে। অর্থাৎ মোট ২,৩৮১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই বোর্ডের আওতাভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি বড় অংশে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি না থাকায় ইউএনওরা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, আর্থিক সিদ্ধান্ত, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে পরিচালনা কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিয়মিত কমিটি না থাকায় এসব কার্যক্রমে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা।

একাধিক প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক বিষয়ে সভাপতির অনুমোদন প্রয়োজন হলেও ইউএনওদের ব্যস্ততার কারণে সময়মতো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

মেহেরপুরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান,তার স্কুল থেকে উপজেলা শহরের দুরত্ব ৩৫ কিলোমিটার এত পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গেলে দেয়া যায় তিনি কোন একটি সরকারী মিটিংয়ে আছেন নতুবা ছুটিতে রয়েছেন। এভাবে দিনের পর দিন ঘুরতে হয় এতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাই দ্রত এডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানান। 

মেহেরপুরের শিক্ষা অফিসার মো: আবদুর রাহীমজানান, একটি উপজেলার ইউএনওকে সরকারের অসংখ্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর পাশাপাশি কয়েক শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দীর্ঘদিন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকে। একারনে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটা ব্যহত হয়। বিধায় দ্রত কমিটি দেওয়ার প্রয়োজন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মেহেরপুরের এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দূর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,সরকারি দাপ্তরিক কাজ, আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নির্বাচনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা অত্যন্ত কঠিন। নিয়মিত পরিচালনা কমিটি থাকলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আরও কার্যকর হতো।

এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মুঃ আব্দুস সালাম কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এডহক কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি আপাতত বন্ধ রয়েছে। আশা করছি দ্রত কমিটি দেওয়ার কাজ শুরু হবে। 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত এডহক পরিচালনা কমিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চালু করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই দূর হবে। একই সঙ্গে ইউএনওদের অতিরিক্ত দায়িত্বও কমবে এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় গতি ফিরে আসবে।

অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সক্রিয় ও কার্যকর পরিচালনা কমিটি অপরিহার্য। তাই শিক্ষার স্বার্থে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর এডহক কমিটি অনুমোদনের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে