দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ বারবার আসে না, তাই বর্তমান সময়কে কাজে লাগিয়ে তরুণদের দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “সুযোগ সব সময় আসে না। এখন আমাদের সামনে একটি সুযোগ এসেছে। আমরা এমন একজন নেতাকে পেয়েছি, যিনি দেশের জন্য কাজ করতে চান। তাই দেশ গঠনে আমাদের সবাইকে তাকে সহযোগিতা করতে হবে।”
বিগত ১৫ থেকে ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সেই ভঙ্গুর কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ এখন শুরু হয়েছে। তবে এই কাজ সহজ নয়, এর জন্য আত্মবিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
দেশের চাকরির বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি চাকরির পদের বিপরীতে এখন পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ছে। অফিস সহকারী পদের মতো চাকরিতেও হাজার হাজার আবেদন পড়ছে। ফলে বেকারত্বের সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়।
এ পরিস্থিতিতে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কৃষিভিত্তিক শিল্প, পোল্ট্রি, কৃষি খামারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার কথা জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে কামার, কুমার, তাঁতি, শিল্পী, গায়ক, খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষি খাতকে আরও উৎপাদনশীল করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্ভাবনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকটের কথাও তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাস, তেল ও জ্বালানির সংকট উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রিন এনার্জি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলন দেশের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন সেই পরিবর্তনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের পড়াশোনার পেছনে দেশের কৃষক ও শ্রমিকের কষ্টার্জিত অর্থের অবদান রয়েছে। তাই শিক্ষা শেষ করে দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করার দায়িত্বও তাদের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে। তরুণদের মেধা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের কৃষি ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবদুল লতিফ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।