ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পৌরসভায় বাস্তবায়নাধীন রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠন নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগের সত্যতা পান। পরিদর্শনের সময় তিনি নিম্নমানের ইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী অপসারনের নির্দেশ দেন।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কালীগঞ্জ গান্না সড়কের পাওয়ার হাউজ থেকে শ্রীরামপুর মধ্যপাড়া পর্যন্ত ১৩৫০ মিটার রাস্তা পৌরসভার অধীনে নির্মাণের কাজ চলছে। ১ কোটি ৭০ লক্ষ ৫৬ হাজার ৪৬৪ টাকা ৫৫ পয়সা প্রাক্কলিত চুক্তিমূল্যে মেসার্স তাজুল ইসলাম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রায় ২০.১০% কম মূল্যে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কাজ নেওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পে অনিয়ম শুরু করেছে। নিম্নমানের কাজ নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া নামমাত্র ও নিম্নমানের ইট এবং নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় রাস্তাটির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। রাস্তাটির নির্মান কাজ চলমান থাকলে পৌরসভার দায়িত্বশীল কাউকে সার্বক্ষনিক তদারকি করতে দেখা মেলে না। পৌর এলাকায় রাস্তা নির্মানে রাজস্ব আয়ের সার্থে পৌরসভার রুলার ব্যাবহার করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। নিন্মমানের ইট রাস্তায় ফেলে দ্রুত তা ভেংগে রুলার করে ফেলা হচ্ছে। বালির ব্যাবহার শিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে না। রাস্তায় নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্যাদি দিয়েসাইন বোর্ড লাগানো হয়নি। এবিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বললে তিনি দায় এড়িয়ে বলেন,কাজ আমি করছি না,আমার লাইসেন্সের কাজটি করছেন অন্যজন।প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি শোয়েব আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি তুলছেন না।
কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাছান সব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে দাবি করেন, কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলছে। বাস্তবতার সাথে প্রকৌশলীর এ বক্তব্যের কোনো মিল খুজে পাওয়া যায় না।
এবিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, সরেজমিনে রাস্তা পরিদর্শন করেছি। বেশকিছু নিম্নমানের ইট রাস্তাতে পেয়েছি। সেগুলো অপসারন করতে বলেছি।