গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট শাখায় ৪৪ জন গ্রাহকের জমা করা সোয়া ২ কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে শাখার ক্যাশিয়ার ও পিয়নের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় টাকা ফেরতের অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন অভিযুক্তরা। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট শাখায় এই দুর্নীতির ঘটনা জানতে পান গ্রাহকরা।
এ ঘটনাকে ঘিরে সোমবার ২৭ জুলাই পর্যন্ত ওই শাখায় অন্যান্য গ্রাহকরা আমানত অনিশ্চয়তার শঙ্কায় ভিড় করছেন। কোটি কোটি টাকার হদিস না মেলায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গ্রাহকদের মাঝে। অনেক গ্রাহক তাদের হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় হতবাক হয়ে পড়েছেন।
ওমর ফারুকসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কেউ কেউ জমার রসিদ দেখাতে পারলেও হিসাব বিবরণীতে সেই অর্থের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অর্ধশত গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকার আমানত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি করছেন তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত হিসাব যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই তাদের জমা করা টাকার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট ধাপেরহাট শাখার ম্যানেজার অলিউর রহমান বলেন, এ শাখার ক্যাশিয়ার ও পিয়ন মিলে এই দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। গ্রাহকের সমূদয় টাকা ফেরতের জন্য স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের স্বাক্ষর করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।