এখন ভরা বর্ষাকাল চললেও নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রকৃতির আচরণ যেন একেবারেই উল্টো। আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা মৌসুমেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। খাল-বিল, ডোবা ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আমন ধানের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির আশায় দিন গুনছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।
কৃষির সাথে জড়িতরা জানান, সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় জমি প্রস্তুত ও আমনের চারা রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক কৃষক বীজতলা তৈরি করলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেসব এলাকায় সেচের ব্যবস্থা সীমিত, সেখানে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে এমন খরার পরিস্থিতি আগে খুব কমই দেখা গেছে। আকাশে মেঘ জমলেও বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক অতিরিক্ত খরচে সেচ দিয়ে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যা কৃষকদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলেন, এখনই যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হয়, তাহলে আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। ফলন কমে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।
এদিকে সৈয়দপুর কৃষি অফিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেখানে সম্ভব সেখানে সেচের মাধ্যমে আমন আবাদ অব্যাহত রাখতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না হলে আমন উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কৃষিবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কৃষি খাতে। তাই দীর্ঘমেয়াদে পানি সংরক্ষণ, আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু সহনশীল ধানের জাতের আবাদ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
ভরা বর্ষায় খরার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এখন সৈয়দপুরের কৃষকদের একটাই প্রত্যাশা কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। তাহলে আমনের আবাদ বাঁচবে,পুরণ হবে কৃষকের স্বপ্ন।