সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই: আপিল বিভাগ

চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়া ও এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই। তাকে সংসদীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের করা আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালতের এ আদেশের ফলে সরোয়ার আলমগীর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

আদালতে নুরুল আমীনের আবেদনে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার আবেদন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ২৭ ও ২৮ জুলাই শুনানি শেষে বুধবার আদেশের দিন ধার্য ছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর যাতে এমপি হিসেবে কাজ করতে না পারেন, সে জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছিলেন। তবে এরই মধ্যে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে করা আবেদনের আর প্রয়োজন নেই। এ কারণে আদালত আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর নুরুল আমীন চাইলে নিয়মিত আপিল করতে পারবেন। তবে বর্তমানে সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন, শপথ নেওয়া এবং সংসদে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

অন্যদিকে নুরুল আমীনের আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর তারা নিয়মিত আপিল করবেন।

সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতার শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার। হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।

পরে নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তার আবেদন মঞ্জুর করে সরোয়ারকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখেন। তবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ নুরুল আমীন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। আদালতের নির্দেশ থাকায় তখন সরোয়ারের বিজয়ের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ আটকে ছিল।

পরে বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এগোয়। ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। এরপর ৯ জুলাই হাইকোর্ট সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের পর নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। একই দিন তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং সরোয়ারকে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে ১২ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন নুরুল আমীন।

সেই আবেদনই দুই দিন শুনানির পর বুধবার কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো। ফলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিলের সুযোগ থাকলেও আপাতত সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে