বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর বেহাল দশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল) : | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর বেহাল দশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম এবং বরিশালের প্রবেশদ্বার বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা) সেতুর মাঝখান ও উভয় প্রান্তের সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর সংযোগস্থলে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্ত, ফাটল এবং পিচ উঠে যাওয়া অংশ সংস্কার না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও যানবাহনের চালক।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝামাঝি ও ঢাল অংশের বিভিন্ন স্থানে গভীর গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে কংক্রিটের অংশ দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। দ্রুতগতিতে চলাচলকারী যানবাহন এসব গর্তের সামনে পড়লে চালকদের হঠাৎ ব্রেক করতে হচ্ছে। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস এবং যাত্রীবাহী বাস চলাচলের সময় অতিরিক্ত ঝাঁকুনির সৃষ্টি হচ্ছে। ভারী যানবাহন গর্তে পড়ে ধাক্কা খাওয়ায় যানবাহনের যান্ত্রিক ক্ষতির পাশাপাশি সেতুর ওপর দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। মাঝে মধ্যে অস্থায়ীভাবে কিছু মেরামতের কাজ করা হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিয়মিত চলাচলকারী কয়েকজন চালক জানান, রাতের অন্ধকার কিংবা বৃষ্টির সময় গর্তগুলো স্পষ্ট দেখা যায় না। ফলে হঠাৎ ব্রেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় যানবাহনের চাকা গর্তে আটকে বিকল হয়ে পড়ে, যার কারণে সেতুর ওপর দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক দ্রুত টেকসইভাবে সংস্কার, গর্ত ও ফাটল মেরামত, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ভারী যানবাহন চলাচলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোনো সময় এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারবে না। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জনদুর্ভোগ কমাতে যত দ্রুত সম্ভব মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে