চাঁদপুরের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘পুরান বাজার - নতুন বাজার সংযোগ সেতু’র দু’পাশের অ্যাপ্রোচ (সংযোগ) সড়কে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চরম দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ সত্ত্বেও সড়কটি মেরামতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ঐতিহাসিক চাঁদপুর শহরকে দুইভাগে বিভক্ত করে রেখেছে ডাকাতিয়া নদী। পুরান বাজার ও নতুন বাজার-শহরের এই দুই অংশকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনতে ২৬০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এই সেতুটি কেবল শহরের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতই নয়, বরং পুরো জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অথচ চরম অবহেলা: চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজারের ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এই সেতুটির ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়ন এবং হাইমচর উপজেলাবাসীর জেলা সদরে আসার এটিই একমাত্র সহজ পথ। পাশাপাশি ফরিদগঞ্জ উপজেলা, লক্ষ্ণীপুর জেলার রায়পুর ও রামগঞ্জ এবং চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি রুটের দূরপাল্লার অসংখ্য যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন চলাচল করে।
ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ও ক্ষোভ: সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়কের পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে খাদের গভীরতা বোঝা যায় না, ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী ছোট ট্রাক উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। যাত্রীদের পাশাপাশি চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অটোরিকশাচালক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যস্ততম এই সেতুটির সংযোগ সড়ক মেরামতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কাটেনি। জোড়াতালি না দিয়ে টেকসই মেরামতের মাধ্যমে রাস্তাটি দ্রুত সমতল করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর সংযোগ সড়কটি অবিলম্বে সংস্কার করে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীগণ।