সুজানগরের সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল বাছেতকে নানা অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একাধিক শিক্ষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ পরীক্ষার শুরু থেকেই তাকে অব্যাহতি দেন। তবে অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন ১৫/১৬জন শিক্ষক অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেতের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করায় পরীক্ষার অনুকূল এবং সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে তাকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। এদিকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর এবার সীমাহীন অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে ফাঁসতে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত। কলেজের সহকারী অধ্যাপক আরশেদ আলম এবং প্রভাষক ফরহাদ হোসেনসহ চারজন শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক অভিযোগে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং আর্শীবাদে সিনিয়র শিক্ষকদের বাদ সম্পূর্ণ অনিয়মের মাধ্যমে উক্ত আব্দুল বাছেত অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, তিনি অধ্যক্ষের চেয়ারে বসার কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চরম স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সহকারী অধ্যাপক আরশেদ আলমের পদোন্নতির ফাইল আটকে রাখার পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক কার্তিক কুমার মালাকারের অবসর সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহ না করে দীর্ঘ প্রায় ৫বছর ফাইল বন্দি করে রাখেন। একইভাবে তিনি ক্ষমতার অবব্যবহার এবং অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে কলেজের পিয়ন মোঃ আব্দুল আলিমকে অবসরে পাঠানোর পাশাপাশি ১৯৮৮সালে উক্ত কলেজে দপ্তরি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মোঃ আব্দুল মান্নানকে নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলেও ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়। এছাড়া দুর্নীতির কথা তো বলাই বাহুল্য। একই অভিযোগ থেকে জানা যায়, অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত অধ্যক্ষ পদে আসীন হওয়ার পর মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্যে শারমীন আক্তারকে বাংলা বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়ে ৮লাখ টাকা, মোছাঃ কামরুন্নাহারকে রসায়ন বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়ে ৮লাখ টাকা, লাবনী করকে অর্থনীতি বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়ে ৮লাখ টাকা এবং শামীমা পারভীনকে মার্কেটিং বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়ে ৬লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। এসব অনিয়ম এবং দুর্নীতির তদন্ত দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ বরাবর আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মহল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ আবেদনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন শিগগিরই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বলেন আমি কোন প্রকার অনিয়ন এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামান্তর মাত্র।