বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩ জনকে আসামি করে মামলা

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম; বাবুগঞ্জ, বরিশাল) :
| আপডেট: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম | প্রকাশ: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩ জনকে আসামি করে মামলা

বরিশালের বাবুগঞ্জে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক  মামলাটি  এজাহার  হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য বাবুগঞ্জ থানার  ওসিকে নির্দেশ দেন । এ ঘটনাটি ঘটেছে ১০জুলাই উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের  ভুতেরদিয়া  ফারজানার আক্তারের বাড়িতে।প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালীদের ম্যানেজ প্রক্রিয়া করায় তাদের চাপে থানায় মামলা করতে দেয়া হয়নি। ভুক্তভোগী ২২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফারজানা আক্তার কোন  উপায়ান্ত  পেয়ে  গত ২০ জুলাই  বাদী  হয়ে ৩জনকে আসামি করে  বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২৫ জুলাই বাবুগঞ্জ থানা মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করেন। 

মামলার আসামিরা হলেন  মো. কাইয়ুম হাওলাদার (৩২), মো. মিনহাজ হোসেন (২৫) ও মো. সৈকত (২৮)।মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি বর্তমানে ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। গত ১০ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তার স্বামী আসাদুজ্জামান বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামিরা তার ঘরে প্রবেশ করে তার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করেন। তিনি বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার গলায় থাকা লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাবুগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়,  আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাবুগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মাসুদ হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এ বিষয়  মামলায় অভিযুক্ত  আসামি কাইয়ুম হাওলাদার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের  কোন ঘটনা ঘটেনি।   গত ৮ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিরোধপূর্ণ জমির কয়েকটি গাছ কাটাকে নিয়ে ফারজানা আক্তারের সাথে  বাগ্বিতণ্ডা হয়। তাদের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছেন।

কাইয়ুম হাওলাদার আরও দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। গাছ কাটার ঘটনায় বাধা দেওয়ার পর প্রতিপক্ষ তাদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন।  অপরদিকে  বাদীপক্ষের পরিবারের সদস্য সেকান্দার হাওলাদার বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে একাধিক দেওয়ানি মামলায় তাদের পক্ষে রায় হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এরপরও প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময় জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাদী ফারজানা আক্তার বলেন, আমি আদালত ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে