দখলে থাকা জমি ও মার্কেট ফেরত চেয়ে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
দখলে থাকা জমি ও মার্কেট ফেরত চেয়ে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল বারেক মোল্লার দখলে থাকা জমি নিজের দাবি করে উদ্ধারের সহায়তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আঃ আজিজ মুসুল্লী। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি। এসময় ওই জমির মালিকানা দাবিদার পৌর বিএনপির সহসভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়া, পৌর যুবদলের সহ সভাপতি মোঃ নুর আলম শেখ ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

লখিত বক্তব্যে আঃ আজিজ মুসুল্লী বলেন, ‘আমাদের ভোগদখলীয় জমি, বিএনপির কার্যালয় আওয়ামী সরকারের সময় দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছেন আঃ বারেক মোল্লা। গত ১৭ বছর আমাদের ভোগদখল করতে দেয়নি। জোরজবরদস্তি করে ভোগ করে আসছে।  হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের পর কিংবা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা আমাদের রেকর্ডীয় জমি উদ্ধার করতে পারতাম। কিন্তু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় আমরা আইনি এবং সামাজিকভাবে সুরাহার চেষ্টা করেছি। কোন সুরাহা পায়নি। তাই গণমাধ্যমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতার দখলে থাকা জমি উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। আমরা গত ১৭টি বছর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা নানাভাবে নির্যাতিত। মামলা হামলার শিকার হয়েছি।’ 

তিনি সবিস্তারে বলেন, ‘এসএ জেএল নং-৩৪, লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এসএ ৫১৭৮, ৫১৮০ ও ৫১৮৪ নং দাগে মোট ১৭ একর ৫০ শতক জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন আরজ আলী শেখ। উক্ত আরজ আলী শেখের নিকট থেকে ১৯৬৫ সালে ১৮০৭ নং সাব-কবলা দলিলমূলে ১.৩৩ একর জমি ক্রয় করেন আঃ আলী শেখ এবং তিনি উক্ত জমির মালিক ও দখলকার হিসেবে ভোগদখলে থাকেন। পরবর্তীতে উক্ত আঃ আলী শেখের নিকট থেকে আমি আঃ আজিজ মুসুল্লী, আলী আহম্মেদ শেখ, আঃ মন্নান (ময়নুদ্দিন) ও নুর আলম শেখ গং যৌথভাবে ১৯৯৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৫৮৫ নং দলিলমূলে ২১ শতক জমি ক্রয় করি এবং দাতা আঃ আলী শেখের রেকর্ডীয় ৩.০৩৫ একর এবং ক্রয়কৃত ১.৩৩ একর, মোট ৪.৩৬৫ একর জমি থেকে বিক্রিত জমি বাদে ১.১৪ একর জমি অবশিষ্ট থেকে যায়। আঃ আলী শেখের অবশিষ্ট জমি থেকে ২০০৯ সালের ১২ মার্চ ১২৯০ নং দলিল মূলে ৭৫ শতাংশ জমি নুর আলম শেখ মালিক হন। যা দীর্ঘদিন ধরে আমরা কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত জমি ভোগদখল করি। পরবর্তীতে আমরা উক্ত জমিতে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করি। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) একটি অফিস স্থাপন করি। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে আমাদের বিএনপির কার্যালয় দখল করে সেখানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে আমাদের ভোগদখলীয় জমিতে অনুমতি ও আইনগত অধিকার ছাড়াই মাটি ভরাট করা হয় এবং জমির সামনের অংশে মার্কেট নির্মাণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভুইয়া উক্ত খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিকের নিকট থেকে ২০০৫ সালের ২২ জুন ৩৬০৫নং সাব-কবলা দলিলমূলে ০.৩৬০০ একর এবং ২০০৫ সালের ৩০ জুন ৩৯১৭নং সাব-কবলা দলিলমূলে ০.৩৮৫০ একর জমি ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে থাকে। ২০০৯ সালে আব্দুল বারেক মোল্লা ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, কাজী আলমগীর উক্ত জমি ও মার্কেট দখল করে তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেয়।

আমরা কোনো ধরনের সংঘাত, প্রতিশোধ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নই। আমরা আইন, ন্যায়বিচার এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করি। আমাদের একমাত্র দাবি সঠিকভাবে দলিল, রেকর্ড ও প্রকৃত তথ্য যাচাইপূর্বক আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ বারেক মোল্লা জমি দখলের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কোন মার্কেট নেই। আমি কারো জমি দখল করিনি। যে জমি বা মার্কেটের কথা বলা হয়েছে ওই জমি বা মার্কেটের মালিক তার ভাইয়ের বেল্লাল মোল্লা। ১৯৯৯  সালে সেকান্দর আলী শেখ এর কাছ থেকে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী ক্রয় করেন। তার কাছ থেকে বেল্লাল মোল্লা ক্রয় করে মার্কেট নির্মাণ করে। এ জমি নিয়ে আদালতের ৫টি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মামলা চলমান রয়েছে। বাবা না থাকায় ভাতিজার পাশে থেকে সহযোগিতা করছেন মাত্র। তিনি দাবি করেন, কুয়াকাটায় বেড়িবাঁধের বাধের বাইরে বিএনপির কখনো কোন অফিস ছিল না। রাজনৈতিকভাবে হয়রাণি এবং মার্কেট দখলে নিতে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তার দাবি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে