অপসাংবাদিকতার দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত বিভিন্ন পেশাজীবী

চাঁদপুরে ‘সাংবাদিক পরিচয়ে’ চাঁদাবাজির অভিযোগ

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
চাঁদপুরে ‘সাংবাদিক পরিচয়ে’ চাঁদাবাজির অভিযোগ

সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। গণমাধ্যমকে বলা হয় গণমানুষের কণ্ঠস্বর, সমাজের দর্পণ। কিন্তু এই মহান পেশার আড়ালে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলে জড়িয়ে পড়ছেন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। ফলে সমাজে সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নেতিবাচক ধারণা, বাড়ছে সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি ও চক্র প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। এতে যেমন সাধারণ মানুষ বিব্রত হচ্ছেন, তেমনি প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের জন্যও সৃষ্টি হচ্ছে চরম সংকট ও চ্যালেঞ্জ।

সম্প্রতি দেশের অন্যান্য জেলার মতো চাঁদপুরেও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অপসাংবাদিকতায় জড়িয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ৬ থেকে ৭ জনের  দল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে বেড়িয়ে নানা অজুহাতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ওই চক্রটি বিশেষ করে অবৈধভাবে মাটি কাটা, বাজার মনিটরিং এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজকে টার্গেট করে। প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কিংবা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তারা অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতি স্কয়ার ফুট হিসাব করেও টাকা দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়, তহশিল অফিস থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের ছোট-বড় ঠিকাদাররাও তাদের চাপের বাইরে নন।

এক ভুক্তভোগী জানান, কয়েকজন কথিত গণমাধ্যমকর্মী দিনের পর দিন তার কর্মস্থলে বসে থেকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। পরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন।

তিনি বলেন, হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে হয়েছে। কিন্তু একবার টাকা দেওয়ার পরও ঝামেলা শেষ হয়নি। পরে আবার অন্যদের পাঠিয়ে একইভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে সাংবাদিকতা করতেন, তাহলে অনিয়ম থাকলে সংবাদ প্রকাশ করতেন। কিন্তু তারা তা না করে বারবার এসে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। এ বিষয় নিয়ে জেষ্ঠ্য সাংবাদিক চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ আলম কথা হয়। তিনি জানান, গণমাধ্যমের মালিকানা ব্যাবসায়ীদের হাতে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে একই অবস্থা। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নেই। প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মানি সঠিক ভাবে দেয়া হয় না। যার ফলে চাটুকারিতা করার জন্য একদল অপেশাদার লোক গণমাধ্যমের প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। সরকারকে এর লাগাম টেনে ধরতে হবে। আরেক জেষ্ঠ্য সাংবাদিক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল পাটওয়ারী বলেন, আসলে  অপ-সাংবাদিকতা কিংবা হলুদ সাংবাদিকতায় যারা নিজেকে জড়িয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তারা প্রথমতঃ এই পেশায় প্রকৃত সাংবাদিকতায় অভিভাবকত্বহীন। আর এরা সেই সাংবাদিকদের সান্নিধ্যেও আসতে চায় না। আবার এদের পেছনে কিছু পেশিশক্তিধর কিংবা ক্ষমতাবান লোকদের পরোক্ষ এমনকি কোন কোন সময়ে প্রত্যক্ষ সমর্থন বা আস্কারা থাকে। তাই এরা সাংবাদিকতার নামে অপকর্ম করতে সাহস পায়।  এদের রুখে দিতে হলে, সাংবাদিকদেরকে এক এবং অভিন্ন থেকে কাজ করতে হবে।

সচেতন মহল বলছেন, অপসাংবাদিকতা ও সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন, সাংবাদিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একইসঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও পেশার মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে