দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে আমন চাষীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমন ধানে সেচ দিচ্ছে ধানকে টিকিয়ে রাখান জন্য। দীঘদিন থেকে পানি না থাকায় আমন ধানের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। আকাশের বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমন চাষীরা শ্যালো মেশিন, গভীর নলকুপ, অগভীর নলকুপ এবং সোলার মেশিন দিয়ে আমন ধান ক্ষেতে আমন ধানকে রক্ষা করার জন্য পানি দিচ্ছেন। একদিকে তীব্র খরায় পুড়ছে ধান অন্যদিকে বিদ্যুৎতের ঘন ঘন লোড সেডিং এবং পর্যাপ্ত নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে তীব্র। ৩টি সমস্যা নিয়ে বুক বেধে আশার আলো দেখছেন আগামী আমন ধান যেন ভালো হয় সেইজন্যই সকল সমস্যা মোকাবিলা করে মাঠে মাঠে নিজ নিজ ক্ষেতে জমির ধান পরিচর্চা করছেন।
কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৫ হাজার ৫শত ৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হযেছে। বর্তমানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে কৃষি বিভাগ দাবী করছেন। কাহারোল উপজেলার কাজী কাটনা গ্রামের সফিকুল ইসলাম জানান, আকাশে বৃষ্টি না থাকার কারণে গভীর নলকুপে পানি নেওয়ার জন্য ৪দিন থেকে ঘুরেও এখন পর্যন্ত পানি পাই নাই। ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। খরার কারণে ধানের জমি ফেটে গেছে। বিদ্যুত না থাকার কারণে সঠিক ভাবে পানি দিতে পারছে না গভীর নলকুপের অপারেটর। একই গ্রামের আমন চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা দুই ভাই মিলে ১৬ বিঘা আমন ধান চাষ করেছি। কিন্তু খরার কারণে ধান গাছগুলি বেড়ে উঠতে কষ্ট হচ্ছে। ঠিকমত সেচ দেওয়া যাচ্ছে না বিদ্যুতের কারণে। ঈশ্বরগ্রামের কৃষক সালেমুদ্দিন বলেন, একদিকে খরা অন্যদিকে বিদ্যুত এবং অপরদিকে নন-ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলায়। তিনি বলেন, ডিলাররা কৃষকের চাহিদামতো সার সরবরাহ করতে পারছে না।
কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জাহিদুর রহমান জানান, খরার কারণে আমরা কৃষকদের জমিতে সেচ দিতে বলেছি। কৃষকেরা তাদের জমিতে সেচ দিচ্ছে । কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করছে। সারের বরাদ্দ বাড়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রতিদিন সার বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।