লৌহজংয়ে পদ্মায় আকস্মিক ভাঙন, আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার

এফএনএস (আবু নাসের খান লিমন; লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
লৌহজংয়ে পদ্মায় আকস্মিক ভাঙন, আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকায় হঠাৎ করে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এলাকায় জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ভাঙন অনেকটা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ভিটেমাটি হারানোর ভয় ও আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার।

ভাঙনের তীব্রতা ও আতংকে নদীর পাড়সংলগ্ন পরিবারগুলো তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, সড়ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা তাদের সাধ্য মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। আপাতত জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা যায় কি না, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতের পাশাপাশি ঘূর্ণিপাকের কারণে নদীর তীর ধসে পড়ছে। ভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল থেকে হঠাৎ করে নদীর তলদেশে ভাঙন শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীতীরবর্তী বিপুল পরিমাণ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পাড়সংলগ্ন প্রায় ২০০ ফুট এলাকা ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এতে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার স্হানীয় লোকজন জানান, হঠাৎ করে পদ্মার পানির তীব্র স্রোতে পাড় ধসে পড়তে শুরু করেছে। চোখের সামনে জমি-জমা নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমাদের ভিটেমাটি হারিয়ে যাবে।

তারা আরও জানান, সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। চোখের সামনে বেশ কিছু জমি জিও ব্যাগসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আর একটু এগোলেই সড়কটিও থাকবে না। আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমাদের শেষ সম্বল বসতভিটা ভেঙে গেলে আমরা কই যামু, কোথায় থাকুম? আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নাই।

গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোবারক ঢালী বলেন, দুপুরে জোয়ারের পানির সঙ্গে প্রায় ২০০ ফুট এলাকা নদীতে ভেঙে গেছে। সকালেও যেখানে শুকনো ছিল, সেখানে এখন লগি ফেলে দেখেছি ৩০ হাতেরও বেশি গভীর হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে এর আগে ফেলা জিও ব্যাগের একটি অংশ প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তারা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকাকে পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা করতে নদীতীরে স্থায়ীভাবে ব্লক স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

লৌহজং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সকালে ঘটনাস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে করে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি না হয় সে দিকেও আমাদের সবসময় সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে