‘গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’, চ্যালেঞ্জের কথাও বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
‘গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’, চ্যালেঞ্জের কথাও বললেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জরুরি, তবে সরকারের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তাঁর সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, সংসদীয় কার্যক্রম, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিবাদী আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, হত্যা ও হয়রানির বিষয় তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’

তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরে তারা আনন্দিত। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।’

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করা সম্ভব হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

সরকারের নাগরিকসেবা ও অধিকার রক্ষার অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তার সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ। প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণকে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আন্দা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। এতে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আইপিইউ সেক্রেটারি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদারে আইপিইউ আগ্রহী বলেও জানান আন্দা ফিলিপ। তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অংশগ্রহণের মাধ্যমে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন আন্দা ফিলিপ। সাক্ষাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

নারীর ক্ষমতায়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানো বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে