যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে অপরিকল্পিত দখল, খুচরা দোকান বসতে দেওয়া ও অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে ব্যবসার জায়গা। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বেচাকেনায়। শুক্রবার বাজারে কাঁচামাল না কিনেই ফিরে গেছেন পাইকারি ক্রেতারা। বাজারের পরিবেশ ও জায়গার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে ব্যর্থ হলে তারা বাজারে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বাজারসংলগ্ন কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও মূল বাজারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট চটের দোকান, মাছের দোকান, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে বাজারের চলাচলের জায়গা কমে গেছে।
তারা আরো জানান, স্কুলের যে জায়গায় মডেল মসজিদ স্থাপন করার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে মাত্র ১৭ টি দোকান ছিল। এই দোকানগুলোর জন্য বাজেরর নির্মাণাধীণ বিল্ডিংয়ের টিনশেডে জায়গা দেওয়া হয়েছে। যা বাজারে জণ্য নূন্যতম প্রভাব পড়ার কথা না। অথচ সরকার বিরোধী একটি কুচক্রিমহল বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার ককরার চেষ্ঠা করছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজার মালিক আতিকুর রহমান লেন্টু কাঁচাবাজারের জন্য ১’শ ৫৭ শতক জায়গা ইজারা নিয়েছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাজারের পরিসর ও আশপাশের জায়গা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ শতক জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এর মধ্যে মাত্র ৪৭ শতাংশ জায়গায় মসজিদ নির্মান করা হচ্ছে। কিন্তু বাজারে অব্যবস্থাপনার কারণে বাজারের মূল অংশে জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে। পাইকারি ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে খুচরা বিক্রেতারা চট বসিয়ে জায়গা দখল নিয়েছে। যে কারনে বাজার সংকুচিত হয়েছে। বার বার বলা সত্বেও হাট ইজাদার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টুর দাবি, তাঁর ইজারা নেওয়া বাজারের জায়গাও বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। ফলে বাজারে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে পাইকারি ক্রেতারা মাল না কিনে চলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্কুলের জায়গা নামমাত্র টাকায় ভাড়া নিয়ে কাঁচাবাজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে একটি মহল। অথচ বাজারের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিষয়টির একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।
পাইকারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে; বাজারের মাঝখান থেকে মাছের দোকান সরানো, খুচরা কাঁচাবাজার অন্যত্র নেওয়া, অপরিকল্পিত ও অবৈধ ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ, বাজারের মাঝখানের আড়তগুলো নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা । ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকি করা গেলে চৌগাছা কাঁচাবাজারের পুরোনো পরিবেশ ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।