জামালপুরে এক গৃহবধূকে অপহরণ ও ধর্ষণের অপরাধে দুই যুবককে দোষী সাব্যস্ত করে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত। বুধবার(২৩ সেপ্টেম্বর)দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার বানিয়া বাজার গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মো. আল-আমিন (২৫) এবং বারুয়ামারি গ্রামের আশরাফের ছেলে সাইদুর (২৮)।সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক পি পি. (পাবলিক প্রসিকিউটর)। তিনি জানান, বিয়ের আগে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল মো.আল-আমিন। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবংপ্রায় পাঁচ বছর আগে অন্য এক ব্যক্তির সাথে তাঁর বিয়ে দেয়। ঘটনার দিন ভুক্তভোগী স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ২০১৩ সালের২৩ নভেম্বর ছোট বোনকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাঁকে গাজীপুর জেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।ভুক্তভোগীর বাবা জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র(চার্জশিট) দাখিল করে।জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম রাষ্ট্রপক্ষের ৭ জন সাক্ষী ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত দণ্ডবিধির ৭ ও ৯(১) ধারায় আল-আমিনকে ৭ লাখ টাকা এবং সাইদুরকে ৫ লাখটাকা জরিমানাও করেন।
একই দিনে দেওয়ানগঞ্জ থানায় নাবালিকা অপহরণ মামলায় ১৪ বছর বয়সী আসামি স্বাধীনকে শিশু আইনে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া ইসলামপুর থানার অপহরণ মামলায় শ্রীজয় দাসকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেরবিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।