জামালপুরে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বাড়ছে সেচ খরচ, বিপাকে চাষিরা

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
জামালপুরে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বাড়ছে সেচ খরচ, বিপাকে চাষিরা

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জামালপুরের রোপা আমন চাষিদের উপর। আমন মৌসুমের মাঝপথে স্বল্প পরিমাণ বৃষ্টির কারণে কান্দা জমিতে প্রতিনিয়ত রুপা আমনধানের জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। এ সময় হঠাৎ ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচের খরচ বেড়েছে। বাড়তি সেচ খরচ ব্যয়ে বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। এতে কোথাও কোথাও পানির অভাবে আমনখেতের মাটি ফেটে যাচ্ছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

জামালপুর জেলার ৬৮ টি ইউনিয়ন ও ৮ টি পৌরসভায় চলতি আমন মৌসুমে প্রায় সারা জেলা এক লক্ষ বিশ হাজার  ৫ শ ৫০ হেক্টর  জমিতে রোপা আমন ফসলের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তুলনামূলক বৃষ্টি কম হওয়ায় উঁচু জমির রোপা আমন ধানে নিয়মিত সেচ দিতে হচ্ছে। ফসল উৎপাদনে মধ্যবর্তী সময়  সেচের প্রয়োজন হওয়ায় হঠাৎ ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়তি চাপে পড়েছেন কৃষকেরা। জেলার অনেক কৃষক উঁচু জমিতে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। বাড়তি ব্যয় সামলাতে কেউ কেউ সেচের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন, আবার কোথাও সেচ বন্ধ থাকায় জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

পলবান্ধা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক আমেজ উদিন শরিফ মিয়া ও সাইদুর মন্ডলসহ স্থানীয়  কৃষকরা জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় আগের তুলনায় সেচের খরচ বেড়েছে। আমন ধানের পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত এই ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সিরাজাবাদ এলাকার কৃষক শরিফ উদ্দিন ও সুরুজ আলী বলেন, সেচের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায়  প্রয়োজন অনুযায়ী জমিতে পানি দিতে পারছি না। তাই এখন বৃষ্টির আশায় অপেক্ষা করছি। পর্যাপ্ত সেচ না দেওয়ায় ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। শেষ পর্যন্ত ফলন কমে গেলে উৎপাদন খরচও ওঠানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

কৃষকেরা জানান, সেচের পাশাপাশি সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের খরচও বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে  সার ও কৃষি উপকরণ পরিবহনেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ধানের দাম সে অনুযায়ী না বাড়লে মৌসুম শেষে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষকদের দাবি, আমন চাষ স্বাভাবিক রাখতে সেচের খরচ সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং কৃষি উপকরণ পরিবহন ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে জামালপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আলম শরীফ খানের কাছে চলতি মৌসুমে জেলায় কত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান এবার চলতি মৌসুমে সারা জেলায় এক লক্ষ বিশ হাজার  ৫ শ ৫০ হেক্টর  জমিতে রোপা আমল চাষ হয়েছে। এছাড়া মরিচ বেগুন টাল তরকারি শাকসবজি প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে বলে জানান।

তিনি আরো বলেন সাশ্রয়ী ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাড়তি সেচ খরচের চাপে আমন চাষিরা রয়েছেন। সময়মতো সেচ না পেলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। কৃষকেরা যাতে কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তুলতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে