শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় এক অসহায় বৃদ্ধার কান্না নজরে আসে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের। কাছে গিয়ে কথা বলতেই বৃদ্ধা জানান, ছেলেরা তাঁকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। থাকার মতো কোনো জায়গা নেই তাঁর। বৃদ্ধার এমন অসহায়ত্বের কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ান ইউএনও।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বৃদ্ধার পরিচয় জানতে পেরে ইউএনও তাঁকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে তার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে কথা বলে জানতে পারেন, বৃদ্ধার নাম পরমিলা। তাঁর স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। জীবিকার তাগিদে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তাঁর বাড়ি কালীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় ভাটপাড়া গ্রামে।
পরে ইউএনও পরমিলার বাড়িতে পৌঁছে তাঁর দুই ছেলে, ছেলের বউ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে বৃদ্ধা পরমিলাকে তাঁর ঘরে তুলে দিয়ে আসেন তিনি।
একজন অসহায় বৃদ্ধার প্রতি ইউএনও'র এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদের এই উদ্যোগের মূল বার্তা-"প্রতিটি পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় হোক। কোনো বৃদ্ধ মা-বাবাকে যেন জীবনের শেষ সময়ে আপনজনের অবহেলা ও আশ্রয়হীনতার শিকার হতে না হয়।"