রাম নবমী উপলক্ষে সিন্দুরমতী পুকুরপাড়ে ভক্তদের ঢল

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
রাম নবমী উপলক্ষে সিন্দুরমতী পুকুরপাড়ে ভক্তদের ঢল

কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতী পুকুরপাড়ে রাম নবমী উপলক্ষে হাজারো ভক্ত-দর্শনার্থীর পদচারণায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর থেকেই পুকুরে পবিত্র স্নান, পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন। কিন্তু শুক্রবার রাত ১২টায় হঠাৎ করে ওই এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হওয়ায় মেলা কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। শনিবার(২৮ মার্চ) পুকুরে চারিদিকে মেলা আবারও বসে। তবে আজ শনিবার সন্ধ্যার পর মেলা সমাপ্ত হবে বলে মেলা কমিটি জানিয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত এই পুকুরপাড়ে দিনভর প্রসাদ(খিঁচুরি) বিতরণ, ভোগ নিবেদন ও পূজা-অর্চনায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ভক্তদের পদচারণায় পুরো এলাকা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

উৎসবকে কেন্দ্র করে সিন্দুরমতী পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে বসেছে গ্রামীণ মেলা, যা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। শুক্রবার দুপুরে সিন্দুরমতী মেলা দেখতে উপস্থিত হন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার, জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান, রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ ও লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আ. মতিনসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। ঐতিহ্যবাহী এ দিঘীকে ঘিরে রয়েছে প্রাচীন লোককথা। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রজাদের জলকষ্ট দূর করতে রাজা রাজ নারায়ণ দিঘীটি খনন করেন। কিন্তু পানি না আসায় দৈববাণী অনুসারে তাঁর দুই কন্যা-সিন্দুর ও মতী-পূজার সময় আত্মত্যাগ করলে দিঘীতে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিঘীর নামকরণ করা হয় ‘সিন্দুরমতী’।

আরও একটি বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র মাসের অষ্টমীতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান শেষে সিন্দুরমতী পুকুরপাড়ে রাত্রিযাপন করে নবমীতে পুনরায় স্নান করলে পূর্ণ পাপমোচন হয়। ধর্মীয় আচার, লোকজ ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এ স্নানোৎসব। স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। এবারের মেলাকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নজরদারি। প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। মেলা উপলক্ষে জুয়া, মাদক ও সার্কাস নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী দুলু বণিক জানান, শুক্রবার ভোর থেকেই ব্রাহ্মণদের মাধ্যমে পূজা চলছে। পূণ্যার্থীরা স্নান শেষে প্রয়াত স্বজনদের উদ্দেশ্যে অস্থি ও পিণ্ডদান করছেন। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার রায় বলেন, “উৎসবকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে এবং প্রায় ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন। একদিনের মেলা হলেও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে শুক্র ও শনিবার দুই দিন আয়োজন চলবে।” তিনি আরও জানান, শনিবার (২৮ মার্চ) এই ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে