২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তিকরণে আদালতের রায় উপেক্ষিত

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তিকরণে আদালতের রায় উপেক্ষিত

পটুয়াখালীর বাউফলে মাধবপুর দাখিল মাদ্রাসা ও পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট নামক প্রতিষ্ঠান দুইটি দীর্ঘ দুই যুগ পার হলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইতোমধ্যে বেতন না পাওয়ার গ্লানি নিয়ে দুইজন শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুইজন শিক্ষক অবসরে গেছেন। ফলে শিক্ষক-কর্মচারী পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ-দুঃখ ও হতাশা বিরাজ করছে। পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের দিন সরেজমিনে গেলে শিক্ষক-কর্মচারী পরিবারের মধ্যে যে দুঃখ-দুর্দশা সে চিত্র ফুটে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিধিমোতাবেক প্রতিষ্ঠান দুইটির এমপিওভুক্তির সকল বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কতিপয় দুষ্ট, দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর কর্মকর্তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং খামখেয়ালিপনার জন্য প্রতিষ্ঠান দুইটি এমপিওভুক্ত হচ্ছেনা।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমপিওভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পৃথক লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রায়ের নির্দেশনার বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাবিবা খাতুন নামের এক ব্যক্তি গত পহেলা মার্চ এই নোটিশ তার আইনজীবী মো. সিদ্দিকুর রহমানের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন। বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখার প্রত্যাশা তার। পটুয়াখালীর বাউফলে মাধবপুর দাখিল মাদ্রাসা এবং পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠান দুইটি এমপিওভুক্তিকরণে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের রায় উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপায়ান্তর না পেয়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ), যুগ্ম সচিব (প্রশাসন অধিশাখা-০২) ও উপসচিবকে (এমপিও) বিবাদী করে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিধি মোতাবেক এমপিওভুক্তির যোগ্যতা থাকা সত্বেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের বুনিবনা না হওয়ায় ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত বঞ্চিত হয় পটুয়াখালীর বাউফলের মাদবপুর দাখিল মাদ্রাসা ও পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ এমপিও চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে ১২২৯৩/১৫ নং রিট মামলা দায়ের করে। এছাড়া মাধবপুর দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ১২৯২১/১৬ নং রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট মামলা সরকার পক্ষসহ উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানীঅন্তে ১৫/৫/২০১৭ ইং তারিখ মাধবপুর মাদ্রাসা ১৬/০২/২০১০ ইং তারিখের এমপিওভুক্তির আবেদনের আলোকে ও পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউটের ১৮/০২/২০১০ ইং তারিখের এমপিওভুক্তির আবেদনের আলোকে কনসিডার করে ৩০ দিনের মধ্যে এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার রায় প্রদান করেন। অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ মাধবপুর দাখিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দায়ের করা ১২৯২১/১৬ নং রিট মামলার ১৫/০৫/১৭ ইং তারিখের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে ২০৯৫/১৯ নং আপিল মামলা দায়ের করেন এবং পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষের দায়ের করা ১২২৯৩/১৫ নং রিট মামলার ১৫/০৫/১৭ ইং তারিখে রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ২০৯৬/১৯ সং আপিল মামলা দায়ের করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দায়ের করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আপিল মামলা ২টি দ্বোতরফা দীর্ঘ শুনানীঅন্তে ২০ নভেম্ব ২০২২ ইং তারিখ মহামান্য হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল মামলা দুইটি খারিজ করে রায় পূর্ণাঙ্গবেঞ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের দায়ের করা আপিল মামলা দুইটি খারিজ করে রায় প্রদান করেন।  

মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোটের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে প্রতিষ্ঠান দুইটি এমপিওভুক্তি করার প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদনসহ বহুবার স্মরণাপন্ন হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোটের সদয় আদেশ না মানিয়া দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগণ গোপন স্বার্থ সিদ্ধিমূলক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হালি করার জন্য একাধিবার পত্র প্রেরণ করে বর্ণিত রিট ও আপিল মামলার কথা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। লিগ্যাল নোটিশে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) রেহেনা ইয়াছমিন, যুগ্ম সচিব (প্রশাসন ও অধিশাখা-০২) সৈয়দ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন এবং উপসচিব (এমপিও) মো. আব্দুল হান্নানকে বিবাদী করে মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের আদেশের মর্মানুসারে ৩০ দিনের মধ্যে মাধবপুর দাখিল মাদরাসার দাখিল স্তর ও পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউটের কৃষি ডিপ্লোমা কোর্স ও এইচএসসি বিএমটি কোর্সের কম্পিউটার অপারেশন, ব্যাংকিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, হিসাব রক্ষণ ট্রেড সমূহ এমপিওভুক্তির জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মাধবপুর দাখিল মাদ্রাসা ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড হতে ১৯৯৪ সালে খোলার অনুমতি এবং ১৯৯৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়। এবং পটুয়াখালী কৃষি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে সুনামের সাথে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, রিট মামলার রায় বাস্তবায়ন ব্যতীত সরকার পক্ষে আইনগত অন্য কোন সুযোগ নেই। উপরোক্ত বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মিজ রেহানা ইয়াছমিন ও উপসচিব (এমপিও) মো. আব্দুল হান্নানের  সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে