কাউখালী শ্রীগুরু সঙ্ঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের চলমান সংকট নিরসনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির এক সভা গত ০৬ এপ্রিল বিকেলে থেকে রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আশ্রম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আশ্রমের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ ও প্রাক্তন কমিটির নেতৃবৃন্দ স্ব স্ব অবস্থান থেকে তাদের বক্তব্য তদন্ত কমিটির নিকট তুলে ধরেন । উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন কমিটির আহবায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা। তিনি মনে করেন উভয়পক্ষ আন্তরিক হলে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হতে পারে।
আশ্রমের প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দাস এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন থেকে এ কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আবুল কালাম আকন, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন ও সদস্য সচিব জেলা হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ।
আশ্রমের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কমল কৃষ্ণ দত্ত বলেন, অভিযোগকারী পক্ষ বিরোধীয় বিষয় নিয়ে আগে হাইকোর্টে মামলা করার পর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট অভিযোগ করেন । তারা মামলা না করে আগেই জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট অভিযোগ জানাতে পারতেন । যেহেতু তারা উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন এবং এ মামলায় সরকার পক্ষ আপিল করেছেন । আপিলের রায় অনুযায়ী মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় বিচারাধীন রয়েছে । সে কারণে আশ্রমের কমিটি গঠন সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া আইন অবমাননার সামিল ।
আশ্রমের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ সজ্জন বলেন, আশ্রমের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বিপুল বরণ ঘোষ এর বিরুদ্ধে কোটি টাকার উপরে আত্মসাৎ এর অভিযোগ আছে । আশ্রমের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়েছে । অভিযোগকারীপক্ষ বিপুল ঘোষের সমর্থনকারী । তারা আশ্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে । আশ্রমের তহবিল তছরুপকারীদের সাথে কোন সমঝোতা চলে না । তারপরেও জেলা প্রশাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছি ।
অপরদিকে অভিযোগকারী পক্ষে ডাক্তার প্রদীপ কর্মকার বলেন, আশ্রমের বর্তমান কমিটি গঠনে গঠনতন্ত্র মান্য করা হয়নি। তাই আমরা হাইকোর্টে রিট করেছি । হাইকোর্টে মামলা করে আবার কেন জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করলেন? এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।
জানা যায়, আশ্রম এর কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন নং-১১৬৮৫/২০২৫ চলমান রয়েছে। উক্ত রীট পিটিশনে মহামান্য হাইকোর্ট চার সপ্তাহের রুল জারি করেন এবং ২ নং বিবাদীর উপর অর্থাৎ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উপ পরিচালক এর উপর কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। উহার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এর সচিব , উপ পরিচালক ও জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর এর পক্ষে সরকার সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপীলেট ডিভিশনে লিভ টু আপিল দায়ের করে ( ৩৩১৪/২০২৫ )। অ্যাপীলেট ডিভিশন শুনানি শেষে রীট পিটিশনটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুনরায় হাইকোর্ট ডিভিশনে প্রেরণ করেন । এটি বর্তমানে হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় বিচারাধীন রয়েছে । আশ্রমের সন্ন্যাসী ও আশ্রম অধ্যক্ষ স্বামী জগন্নাথানন্দ সরস্বতী বলেন, হাইকোর্টে চলমান মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আহ্বায়ক কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয় । তাছাড়া সাধারণ পরিষদের ৩৫১ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া আমার একক সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার নেই।