ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের জেনারেটর নিয়ে ৫ লিটার পেট্রাল পেতে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ৫শ' টাকা’র ভ্যান গাড়ীর ভাড়া গুনতে হয়েছে একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিককে। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। আজ বুধবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের জন্য ওই সেন্টারের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষায় বিলম্ব হচ্ছে। যেকারনে রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখার জন্য জ্বালানি হিসেবে পেট্রোল প্রয়োজন। সূত্রে আরও জানা গেছে, দেশে জ্বালানি সংকটের পূর্বে স্থানীয় বাজার থেকে পেট্রোল ক্রয় করে চাহিদা পূরন করা হতো। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে পেট্রােল না পাওয়ায় বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো.আনিচুর রহমান হাওলাদার পেট্রোলের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও পেট্রোল পাম্মের ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহার অফিসে এসে দাবি জানান। ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কাগজপত্র ও জেনারেটর নিয়ে ৭ এপ্রিল তার অফিসে আসতে বলেন। ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ ভ্যানে করে জেনারেটর নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসলে ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা সিল স্বাক্ষরসহ ৫ লিটার পেট্রোল প্রদানের জন্য একটি সিলিপ দিয়ে তাদের আগৈলঝাড়া ফিলিং ষ্টোশনে পাঠায়। ওই সময় ফিলিং ষ্টোশনে পেট্রোল না থাকায় দুপুর থেকে অপেক্ষা করে সন্ধ্যায় ৫ লিটার পেট্রোল ৬৮০টা দিয়ে ক্রয় করে বাগধা ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ফিরে যান। এতে সাতলা গ্রামের ভ্যান চালক রহিম সরদারকে ৫শ' টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। আগৈলঝাড়া ফিলিং ষ্টোশনে একশ' টাকার উপরে কাউকে তেল দেয়া হচ্ছেনা। পাম্ম থেকে চাহিদামত তেল না পেয়ে, সেচ মৌসুমে প্রতিদিনই কৃষকরা সেচ পাম্পের তেলের সিলিপের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো.বায়েজীদ সরদার ও ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহার দপ্তরে ভীর করছেন। এ ব্যাপারে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মো.আনিচুর রহমান হাওলাদার বলেন, পেট্রোলের জন্য ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহার কাছে গেলে তিনি সরেজমিন এসে কাগজপত্র ও জেনারেটর নিয়ে উপজেলা সদরে আসতে বলেন। সে ৫ লিটার পেট্রোলের সিলিপ দিলে সন্ধ্যায় পেট্রোল নিয়ে ফিরে আসি। পরবতীতে পেট্রোলের প্রয়োজন হলে পুনরায় জেনারেটর নিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক ইউপি সদস্য শামীম মিয়া নিক্সন জানান, বিদ্যুৎতের লোডলোডিংয়ের কারনে স্থানীয় বাজার থেকে পেট্রোল ক্রয় করতাম। সংকটের কারনে আসা-যাওয়ায় ২৬ কিলোমিটার দূরত্বে ভ্যানে করে জেনারেটর নিয়ে ৫ লিটার পেট্রোল পেতে ৫শত টাকা ভ্যান ভাড়া দিতে হয়েছে। এভাবে হলে আমরা কিভাবে সেবামুলক প্রতিষ্ঠান চালাবো? এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তেলের জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার অয়ন সাহা বলেন, পেট্রোল একটি জ্বালানি পদার্থ, যার কারনে সরকারি নিদের্শ রয়েছে খোলা কোন পাত্রে বহন করা যাবে না। যার কারনে জেনারেটর নিয়ে আসতে বলা হয়েছে এবং পেট্রোল শেষ হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য পুনরায় জেনারেটর নিয়ে পেট্রোল নিতে আসতে বলা হয়েছে।