জামায়াতের আমীর ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার লংঘন করেছে। ফলে জনগণের অধিকার আদায়ে এক চুলও ছাড় নয়। সংসদের ভিতরে ও বাইরে প্রতিবাদ জারি রাখা হবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ে এতো রক্ত দেয়ার পরও রাজনীতিতে কেন এতো সহিংসতা? সংসদে টাকা খরচ করে অশ্লীল বাক্যালাপ প্রত্যাশিত না। মানুষ খুন করে যদি পার্লামেন্টে যাওয়া হয়, তবে তাদের কাছ থেকে কি আশা করা যায়। তিনি শনিবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেরপুর-৩ আসনে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা আশংকাজনক। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী এবং অব্যবস্থাপনার চিত্রই বলে দেয় জনগণের স্বাস্থ্য সেবার প্রতি অবিচার করছে সরকার। এসময় ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া জামায়াত থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মু. কামরুল হাসান মিলন, জেলা জামায়াতে আমির আবদুল করিম, মহানগর জামায়াতে আমির কামরুল এহসান এমরুলসহ জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের আমীর ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের শেরপুর এবং বগুড়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুই জায়গায় আমরা আশা করেছিলাম বিগত নির্বাচন যেভাবেই হোক, এখন একটা সরকার হয়েছে। আমরা কেউ বসেছি সরকারি দলে, কেউ বসেছি বিরোধী দলে। এখন দেশটা সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক, কিন্ত এ দুৃটি নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়ম, বিভিন্ন ধরণের জালিয়াতি, সহিংসতা এবং ক্ষেত্র বিশেষে শুধু সহিংসতা না, ভয়াবহ সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। এরকমই একটা বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে শেরপুর-৩ আসনে। এর আগেও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভাচিন হওয়ার কথা ছিল, তার আগেও সহিংসতায় জামায়াতের ইসলামীূর সেক্রেটারি মৌলানা রেজাউল করিমকে খুন করা হয়। তার সাথে আরো তিনজনকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। তারা এখনো চিকিৎসাধীন, এখনো আশংকামুক্ত হননি। যিনি ঐ এলাকায় জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন, তিনি ভোটের আগেই ইন্তেকাল করেছেন। যার কারনে ভোট স্থগিত হয়। এই স্থগিত নির্বাচনেও একজন মানুষ আগে মারা গেছে এবং একজন বয়স্ক মানুষকে মাথায় কুপ দেওয়া হয়েছে। তিনি সংঙ্কাহীন ছিলেন, আজকে দেখলাম তার জ্ঞান ফিরেছে। আমরা দোয়া করি আল্লাহতায়ালা তাকে সুস্থতা ও নেয়ামন দান করুন। জামায়াতের আমীর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সন্ত্রাস-হানাহানি, বিশৃঙ্খলা ছিল। কিন্তু জুলাইয়ে এতো লোক প্রাণ দিলাম আর কেন রক্ত দিতে হবে? আমরাতো আশা করেছিলাম যে, রক্ত দেওয়াটা ওখানেই শেষ হবে। রাজনীতির ময়দানে সুস্থতা ফিরে আসবে। রাজনীতি হবে ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক। আমার আদর্শ আমার কাছে। আমি যেমন আমার আদর্শকে ভালোবাসি আরেকটা লোক তার অধিকারকে ভালোবাসবে। এটা তার নাগরিক অধিকার। এখানে মুখ চলবে হাত চলবে কেন? মুখ চলবে ভদ্রভাবে,। সংসদে প্রথম অধিবেশনেই আমরা বলেছিলাম, এই সংসদ একটা উদাহরণ হবে। অতীতে এই সংসদে জণগণের কল্যানের চেয়ে চরিত্র হননের সময় ব্যয় হয়েছে বেশী। কাদের টাকায় ক্ষমতায় বসে? জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে। প্রতি মূহুর্তে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এটা কোন মামুলি কথা নয়। এই টাকা খরচ করতে আমাদের কলিজা কাঁপবে না? জনগণের টাকা সদব্যবহার করার জন্য জনগণ ৩০০ আসনে আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। সেখানে বসে অশ্লীল বাক্য বিনিময় করবো, অযথা সময় কাটাবো এবং জণকল্যানে কোন আইন পাশ করতে গেলে বাঁধা পাবো, এটা আমাদের কাম্য না। জনকল্যাণে যে আইনই হবে, সে আইনের প্রতি উভয় পক্ষের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যারা সংসদে যাবেন তারা যদি মানুষ খুন করে সংসদে যান, তারা দেশবাসীর জন্য কি করবেন? মানুষের জীবন নিয়ে আমাকে সংসদে যেতে হবে কেনো? আমি যাবো মানুষের জীবন-সম্পদ এবং ইজ্জতের পাহারাদার হতে। সেই আমার কাছেই যদি জীবন চলে যায়, ইজ্জতও চলে যায়, আমার সম্পদও ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলেতো আমি এই সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখি না। আমি অযোগ্য। আমরা আশা করবো, আহ্বান জানাবো, ভবিষ্যতে আরো বহু নির্বাচন হবে। গণতান্ত্রিক একটা দেশে তার কাঠামো নির্বাচনের উপর নির্ভরশীল। নির্বাচনে আর যেন কোন সহিংসতা না হয়, আর কারো মায়ের বুক খালি না হয়, আর কোন বোন যেন বিধবা না হয়, আর কোন সন্তান যেন এতিম না হয়। আমরা চাইবো আদর্শের লড়াই হোক। হাতের লড়াই নয়, অস্ত্রের লড়াই নয়।