বরিশালের লোকজ ঐতিহ্য আজ কেবলই স্মৃতি

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
বরিশালের লোকজ ঐতিহ্য আজ কেবলই স্মৃতি

‎বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা গ্রামে প্রায় পাঁচশ' বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গজনীর দীঘি ঘিরে একসময় বসত জমকালো মেলা। ঘোড়দৌড়, সার্কাস ও স্থানীয় পণ্যের সেই পসরা এখন কেবলই স্মৃতি।

শুধু গজনীর মেলাই নয়; উজিরপুরের দুই শতকের পুরোনো করিম উদ্দিনের মেলা, বানারীপাড়ার চৈত্রসংক্রান্তির মেলা, গৌরনদী বন্দরের মেলা, বাটাজোরের কাটা গাছ তলার মেলার সেই জৌলুশ আর নেই। কালের বিবর্তনে বরিশালের এসব লোকজ ঐতিহ্য এখন বাস্তবে নয়, বরং ঠাঁই পেয়েছে বইয়ের পাতায় কিংবা আর্কাইভের নথিতে।

‎১৯৯১ সালে একটি হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ হয়ে যায় ঐতিহাসিক গজনীর মেলা। পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে গেছে বাবুগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়। করোনার কারণে বন্ধ হওয়া চাঁদের হাটের সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আর ফেরেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতায় থমকে গেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শব্দাবলির তিন দিনের বইমেলা।

‎নগরীর বেলস পার্কে হস্ত ও কুটির শিল্প মেলা এবং স্বরস্বতী বিদ্যালয় মাঠে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নিয়মিত হলেও তা এখন ঐতিহ্য রক্ষার একধরনের চেষ্টা মাত্র। দুই শতকের পুরোনো বানারীপাড়ার চৈত্রসংক্রান্তির মেলাটি এখন কোনোমতে ‘তুলার মেলা’ নামে টিকে আছে। তেমনি উজিরপুরের দুই শতকের পুরোনো করিম উদ্দিনের মেলা, প্রায় তিনশ' বছরের পুরনো গৌরনদী বন্দরের মেলা, বাটাজোরের কাটা গাছ তলার মেলা নামেমাত্র টিকে আছে।

‎সাংস্কৃতিককর্মী ও গবেষকদের মতে, আধুনিক নগরায়ণ, প্রযুক্তির প্রভাব এবং প্লাস্টিক পণ্যের আগ্রাসনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে লোকজ সংস্কৃতি।

‎বরিশাল চারুকলার সংগঠক সুশান্ত ঘোষ এবং সাংবাদিক ও গবেষক আনিচুর রহমান খান স্বপন বলেন, একসময় মেলার দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে থাকত বাঁশ, বেত ও মাটির পণ্য। এখন সেই জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও সিরামিক। প্লাস্টিকের আগ্রাসনে মৃৎ শিল্পীরা এখন আর মাটির তৈজসপত্র তৈরিতে উৎসাহ পাচ্ছেন না। ফলে মেলাগুলোও আকর্ষণ হারাচ্ছে।

‎শব্দাবলি গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি মো. ফারুক হোসেনের মতে, সরকারি উদ্যোগে নববর্ষ পালনে স্থানীয় সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করায় সংগঠনগুলো নিজস্ব সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলছে। ফলে উৎসবের পরিধি সংকুচিত হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে