সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় চেয়ারম্যানদের যেমন অসুবিধা হচ্ছে, তেমনি দৈনন্দিন সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যমুনা চরের অন্তত ২ লাখ মানুষ।
সরেজমিনে জানা যায়, চন্দনবাইশা ইউনিয়ন পরিষদের কাজ চলছে ঘুমঘুমারী গ্রামে ভাড়া ঘরে। ১৬ বছর আগে যমুনার ভাঙ্গনে বিলীন হয় চন্দবাইশা ইউপি ভবন। তারপর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের কোন ভবন নেই। তবে এই ইউনিয়নে পরিষদ ভবন স্থানীয়রা দেখলেও বোহাইল, কর্ণিবাড়ি ও চালুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কোন কালই দেখেননি এলাকার প্রবীনরাও। এই চার ইউনিয়নের ১১৭টি চর গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন সেবা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পদে পদে। প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরে নান্দিনার চর থেকে আসা জুলফিকার আলী কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিক সেবা নিতে আসেন উপজেলার মথুরাপাড়া বাজারে। সেখানে একটি ভাড়া ঘরে চলে কোন মতে পরিষদের কার্যক্রম। জুলফিকার আলী তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে জন্মনিবন্ধন নিতে আসলেও, ফেরত যেতে হয় তাকে। চেয়ারম্যান না থাকায় পরদিন আবারও আসতে হবে তাকে যমুনা নদী পার হয়ে।নদী পাড়ের একাধিক মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান,এই ভাবে তাদের বছরের পর বছর কষ্ট করে চেয়ারম্যানের কাছে আসতে হয়। আবার চেয়ারম্যান থাকলেও বিদ্যুৎ সহ ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে একাধিক বার ঘুরতে হয় এসব অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদে। তবে তাদের সবারই দাবী প্রত্যেক ইউনিয়নের যেনো একটি নিজ-^ ভবন থাকে। আর সরকারের সকল সুবিধা সবাই নিতে পারে।
বোহাইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খান বলেন,চরের এই পরিষদের আওতায় প্রায় ৩৫ হাজার নাগরিক সেবা দিতে কষ্ট করতে হয়, অপরদিকে সেবা প্রার্থীরাও অবর্ননীয় দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে। সুবিধার কথা চিন্তা করে, সারিয়াকান্দি পৌর এলাকা সহ তিন স্থানে সেবা কেন্দ্র খুলেছি এবং এই ইউনিয়ন দুই ভাগে বিভক্ত করার দাবি জানিয়য়েছি।