কলাপাড়ায় বেশি দামে ঔষধ বিক্রির সিন্ডিকেট

কম দামে ঔষধ বিক্রি করায় ফার্মেসি বন্ধ করে দিল ড্রাগ ও কেমিস্ট সমিতি

এফএনএস (মিলন কর্মকার রাজু; কলাপাড়া, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
কম দামে ঔষধ বিক্রি করায় ফার্মেসি বন্ধ করে দিল ড্রাগ ও কেমিস্ট সমিতি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সিন্ডিকেট করে ঔষধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ড্রাগ ও কেমিস্ট সমিতি। এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কম দামে ঔষধ বিক্রি করায় ফার্মেসি বন্ধ করে দিয়েছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। একাধিক দোকানকে নোটিশ দিয়েছে। এমনকি এ ফার্মেসি মালিকদের কাছে ঔষধ বিক্রি করলে ফারিয়া সদস্যদেরও জরিমানা করার ঘোষণা দেয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  তবে ড্রাগ ও কেমিস্ট সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেউ কম দামে ঔষধ বিক্রি করতে পারবে না। এটা সমিতির সিদ্ধান্ত,  কোন সিন্ডিকেট করা হয়নি। তবে ৭১ এ প্রতিনিধির হাতে এসেছে এ সিন্ডিকেটের গোপন নোটিশের কপি। এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে কলাপাড়ায়  শুরু হয় বেশি দামে ঔষধ বিক্রির সিন্ডিকেটের কার্যক্রম।  কলাপাড়ার ১২ টি ইউনিয়ন ও  দুটি পৌরসভার ৫০০ ‘র বেশি ফার্মেসিকে এ সিন্ডিকেটের আওতায় নেয় ড্রাগ ও কেমিস্ট সমিতি। কলাপাড়ায় আগে প্রতিটি দোকানে ঔষধ ভেদে ১০-১৫ পার্সেন্ট কম রেটে ক্রেতারা ঔষধ ক্রয় করতে পারতো। কিন্তু এই সিন্ডিকেট একটিভ হওয়ায় ফার্মেসিতে পার্সেন্টিজ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় জরিমানা ও দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে।  কলাপাড়া ড্রাগ ও কেমিস্ট সমিতির বেশি দামে ঔষধ বিক্রির এ সিন্ডিকেট প্রথা গত ১৫ দিন প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের অজানা থাকলেও শুক্রবার প্রথমে প্রগতি মেডিকেল হল নামে একটি খুচরা ঔষধ বিক্রি করার ফার্মেসি বন্ধ করে দেয়ায় এটা মানুষ জানতে পারে। বেরিয়ে আসে তাদের গোপন কার্যক্রম। ৭১ টিভির প্রতিনিধির হাতে আসে এ সিন্ডিকেটের ফার্মেসি বন্ধ করার নোটিশসহ ফারিয়া সদস্যদেরও হুমকির নোটিশের কপি।

আপসঃ প্রগতি মেডিকেল হল এর মালিক স্বপন পাল ও তার ছেলে সুদিব পাল বলেন, আগে ১০ পার্সেন্ট কম দামে ঔষধ বিক্রি করলে লাভ হতো। এখন তাদের বাধ্য করা হচ্ছে প্যাকেটের গায়ে লেখা দামে ঔষধ বিক্রি করতে। বৃহস্পতিবাী আর একজন বৃদ্ধ ভিক্ষুককে মানবিকতা দেখিয়ে সাড়ে তিনশ টাকার ঔষধ ১০০ টাকায় দেয়ায় দোকান বন্ধ করে দিয়েছে সমিতির কর্মকর্তারা। তাদের অপরাধ কেন তারা ১০০ টাকায় ঔষধ বিক্রি করেছেন।  ন্যাশনাল ফার্মেসির মালিক দুলাল হোসেন  বলেন, যারা কম দামে ঔষধ বিক্রি করবে সেসব ফার্মেসিতে ঔষধ সরবরাহ না করতেও নোটিশ দিয়েছে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের। তারা সমিতির কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা এ সিন্ডিকেট থেকে বের হতে চাইলেই দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে।  তাদের হয়রানি করছে।  এদিকে বেশি দামে ঔষধ কিনতে বাধ্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।  তারা এ ঔষধ সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়ার জন্য ঔষধ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের দাবি জানান। এবিষয়ে কলাপাড়া ড্রাগ ও কেমিস্ট সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, তারা ৫ পার্সেন্ট রেট বেঁধে দিয়েছেন। আর সমিতির সিদ্ধান্ত না মানলে ফার্মেসি বন্ধ করে দেয়া হবে এটা সবার মতামত । তারা নিয়ম অনুযায়ী ওই ফার্মেসি বন্ধ করতে বলেছেন।  তবে কলাপাড়ায় ২০০'র বেশি  ফার্মেসিতে ঔষধ প্রশাসন থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নেই।  তারা চেষ্টা করছেন তাদের লাইসেন্স করাতে। আর এমআরপি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাহিদ তালুকদার  বলেন, অনেক ফার্মসিতে ভেজাল ঔষধ বিক্রি করে।  এ ভেজাল ঔষধ বিক্রি বন্ধ করতে তারা এ নিয়ম চালু করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের উপকার হবে এবং ভেজাল ঔষধ বিক্রি বন্ধ হবে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন,  কোন ফার্মেসি কম দামে ঔষধ বিক্রি করলে সেটা তার নিজস্ব বিষয়।  সিন্ডিকেট করে বেশি দামে ঔষধ বিক্রির সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে