ঘাতক বাস আটক করায় পুলিশ সদস্যকে হেনেস্তা

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
ঘাতক বাস আটক করায় পুলিশ সদস্যকে হেনেস্তা

মহাসড়ক পারাপারের সময় বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস আটক করায় হাইওয়ে থানা পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে এক সদস্যকে শারিরিকভাবে হেনেস্তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী ফিলিং স্টেশনের সামনে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছেন, শনিবার দিবাগত রাত আটটার দিকে গৌরনদীর আশোকাঠী বাসষ্ট্যান্ডে ইউনুস সেরনিয়াবাত (৬০) নামের এক ব্যক্তি মহাসড়ক পারাপারের সময় বরিশালগামী বেপরোয়াগতির শরিয়তপুর পরিবহনের চাঁপায় নিহত হয়। নিহত ইউনুস আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। সূত্রে আরও জানা গেছে, খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা আশোকাঠী ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে ঘাতক বাসটি আটক করে। নিহতের স্বজন ও হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেপরোয়াগতির পরিবহনের চাঁপায় বৃদ্ধ ইউনুস নিহত হওয়ার পর পরই গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান ও তার সহযোগিরা নিহতের পরিবারের সাথে মৌখিক সমঝোতা করে ঘাতক বাসটি ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে খবরপেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ বাসটি আটক করে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এসআই শরীফ উদ্দিন বলেন, ঘাতক বাসটি আটক করায় বিএনপি নেতা হান্নান শরীফ প্রথমে পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হন। এসময় তার সাথে থাকা ১৫/২০ জন লোক পুলিশ সদস্যদের শারিরিকভাবে হেনেস্তা করেন। তিনি আরও বলেন, তারা (বিএনপি নেতা) নিহতের স্বজনদের সাথে সমঝোতা করে ঘাতক বাস ছেড়ে দিয়েছে সেটা আমাদের বললেই হতো। কিন্তু তারা সেটি না করে আমরা বাস আটক করায় উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হয়ে সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করে পুলিশ সদস্যদের শারিরিকভাবে হেনেস্তা করেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে ঘাতক বাসটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাস ছেড়ে দেয়া ও শারিরিক হেনেস্তার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, এলাকাবাসীজড়ো হয়ে পুলিশের সাথে বাগবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে পরেছিলো। এসময় আমি ওই এলাকা দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে যাওয়ার সময় বিষয়টি দেখে পুলিশের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছি। ঘটনার সাথে আমার কোন লোক জড়িত নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে