অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম

তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা? ব্যাখ্যা দিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা? ব্যাখ্যা দিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক

সাম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ‘ তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা’সহ নানা শিরোনামে নিজের একটি ভাইরাল ভিডিওর মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম।তিনি জেলা বিএনপি’রও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। রোববার(১৯ এপ্রিল) বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, জেলা পরিষদে নিজস্ব কক্ষে একদল যুবকের কথোপকথনে উত্তেজিত যুবকদের প্রতি মেজাজ হারাচ্ছেন প্রশাসক সেলিম। তার সাথে অপর প্রান্ত থেকে কয়েকজন যুবক একের পর এক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করছেন। আর ওই বাক্যের প্রতি উত্তরের এক পর্যায়ে সেলিম বলেন- ‘তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা’সহ ইত্যাদি। আর সেই ভিডিওটিরই একটি ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর তার কমেন্টে জুলাই অবমাননা, জুলাই যোদ্ধাদের সাথে অসৌজন্যবোধমূলক আচরণসহ নানা মতামত ও অভিযোগ তুলে ধরেন নেটিজেনরা। তবে সেই নেটিজেনরই একটি পক্ষ অবশ্য সেলিমের এমন কথার প্রশংসামূলক কমেন্ট করতেও দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলোচনায় সলিম উল্যা সেলিম নিজের সেই ভাইরাল মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এবং ঘটনাটি কি ঘটেছিলো তা তুলে ধরেন।

সেলিম বলেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদে গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালীন সময়ে কতিপয় ব্যক্তিগণ আমি প্রশাসকের চেয়ারে বসা অবস্থায় অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। আমি তাদের সাথে কুশল বিনিময় করি। এক পর্যায়ে কতিপয় ব্যক্তি জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আর্থিক অনুদান দেয়ার জন্য দাবী করে। তাদের দাবী জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তারা অনুদান পাবেই। এক পর্যায়ে তারা আমাকে চাপ প্রয়োগ করে অনুদান দিতে বাধ্য করাতে চেষ্টা করে। তাদেরকে জেলা পরিষদ থেকে অনুদান দিতেই হবে এমনটা মর্জি করে। তিনি বলেন, আমি তাদেরকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তাদের গেজেট দেখাতে বলি। এক পর্যায়ে তারা গেজেট বা আহতের কোন প্রমাণাদি দেখাতে ব্যর্থ হয়ে বিশৃংখলায় জড়ায়। তাদের আমি নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি এবং বলি ওই ব্যটা প্রমাণ ছাড়া তোরা কিসের জুলাই যোদ্ধা? তারা প্রশাসনিক বক্তব্য শুনতে বা মানতে নারাজ। আমি প্রশাসক হিসেবে তাদের জানাই যে, জেলা পরিষদ একটি নিরপেক্ষ ও স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান। এখানে দলমতের উর্দ্ধে থেকে কাজ করতে হয়। গেজেট ও বিধি-বিধান এবং প্রজ্ঞাপন মেনেই কাজ করতে হয়। বিধি-বিধানের বাইরে কাউকে সহযোগিতা করা হবে না। যা স্থানীয় সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।  তিনি বলেন, তারা জুলাই আহত হিসেবে গেজেট দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে তাদের সাথে আগত গুপ্তচরদ্বারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অসৎ উদ্দেশ্যে কোন এক সময় ভিডিও রেকর্ডিং করে। এরপর তার খন্ডিত চুম্বক অংশ প্রচার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তি ছড়ায়। যা সরকারি অফিস ও তথ্য আইন বিধি বহির্ভূত। 

সেলিম আরও বলেন, ১৯৫২ ও ১৯৭১ সবার আগে গর্বের সাথে ধারণ করতে হবে এবং একই সাথে বিগত সরকারের পতনের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই সংগ্রামের মূল্য সক্রীয় বিবেচনায় রেখে ৩৬ জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সমিচিন বলে মনে করি। কাজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব বটবাহিনী কর্তৃক খন্ডিত ভিডিও ছড়িয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো শুধুই উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত এবং অনৈতিক সুবিধা হাছিলের চক্রান্ত ছিলো বলে আমি মনে করি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে