বাগেরহাটের শরণখোলা সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে মাঠজুড়ে তরমুজের চাষ হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ লতায় ঝুলছে লাল রসালো তরমুজ। উন্নত বীজ বপন, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের সময়োপযোগী পরিচর্যার ফলে তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি ফুটছে। ফলে শরণখোলায় তরমুজ চাষ এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শরণখোলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম মনি জানান, শরণখোলার বিভিন্ন জায়গায় তরমুজের চাষ হলেও সোনাতলায় মাঠজুড়ে ব্যাপক আকারে তরমুজের চাষ হয়েছে। ওই মাঠে মজিবর আকন, তার পুত্র ইমাম হোসেন, জামাই বাচ্চু মিয়া ২০ বিঘা, শামীম ১০ বিঘা, শিপন মজুমদার ৯ বিঘা ও ইব্রাহিম ৮ বিঘাসহ চাষীরা শতাধিক বিঘা জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মতে চাষীরা উন্নত ফলনশীল জাত-পাকিজা, আস্তা, হিমেল, সুগার, বিগ ফ্যামিলি ও থাইল্যান্ড-২ বীজ বপন করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ৮০০ পিস তরমুজ হয়েছে, যার গড় ওজন ৬-৭ কেজি। তরমুজ চাষি মজিবর ও ইমাম হোসেন আকন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষ করে আমরা সফল হয়েছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। তেল সংকটের কারণে আমাদের চাহিদামতো পাইকাররা পরিবহনের জন্য ট্রাক নিয়ে আসতে পারছে না, তাই কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমরা সকল চাষী লাভবান হব, তবে পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত হলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষে কৃষকরা ঝুঁকে পড়েছেন। সোনাতলায় মাঠজুড়ে ১১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। চাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং পানি মাপার যন্ত্র দিয়ে লবণাক্ততা যাচাই করে সেচ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ ব্যবহার ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাইও কম ছিল। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে শরণখোলার বাইরে খুলনায় তরমুজ রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে তেল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। চাষীরা লাভবান হওয়ায় তাদের চোখেমুখে হাসি ফুটে উঠেছে।