অনির্বাণ কোচিং সেন্টার কাম কথিত মডেল স্কুলের শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা

দ্বীন ইসলামের এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ এএম | প্রকাশ: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
দ্বীন ইসলামের এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

গতকালকের (রবিবার) এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল। তখন পর্যন্ত বলা হয়েছে এডমিড কার্ড বিকালে দেওয়া হবে। কিন্তু আজকে বিকালে বলা হয়েছে ফরম ফিলাপ হয়নি। এডমিট কার্ড তো দূরের কথা। এই খবর শোনার পরে শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান মো. দ্বীন ইসলাম হতাশ হয়ে পড়েছেন। প্রিয় সন্তানের পরীক্ষা দিতে না পারার খবরে উদভ্রান্তের মতো দ্বারে ছুটছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার অনির্বাণ কোচিং সেন্টার কাম মডেল স্কুলের এক হতভাগা শিক্ষার্থী মো. দ্বীন ইসলামের শিক্ষা জীবনের মাধ্যমিক পর্যায়ের অনিশ্চিয়তার একটি খবর। ওই কোচিং সেন্টার কাম কথিত মডেল স্কুলের শিক্ষক মো. শাহীনের স্বেচ্ছাচারিতায় মাধ্যমিক শিক্ষার প্রথম ধাপেই বড় ধরনের ধকলে পড়ল দ্বীন ইসলাম।  শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম জানায়, গতকালকে আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান করা হয়েছে।  এজন্য আলাদা আরও এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এর আগে কোচিং ফি স্কুলের টাকা দিতে হয়েছে। কাঠালপাড়া স্কুল থেকে সকলের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। দ্বীন ইসলাম আরো জানায়, তারা মোট ১২ জনে অনির্বাণ মডেল স্কুল থেকে পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। দ্বীন ইসলামের বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগম জানান,  ফরম ফিলাপ বাবদ ৩৫০০ টাকাসহ মোট ৪০০০ হাজার টাকা দিয়েছেন। অনেক কষ্ট করে গাছের তুলা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। একটা ছাগল আছিল, তাও বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন। তার স্বামী একটা চালের দোকানে কাজ করেন। আনোয়ারা বেগম  দাবি করেন, রোজার আগে শাহীন স্যারকে টাকা দিয়েছেন। যখনই এডমিট কার্ড চেয়েছেন তখনই আজ-কালের মধ্যে দেওয়ার কথা  বলা হয়েছে। কিন্তু আজকের জানতে পারেন তার ছেলের এডমিট কার্ড আসে নাই। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. শাহীনকে একাধিক বার মোবাইল করা হয়েছে। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন। এটা একটা বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টার। কোন স্কুল নয়। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গ প্রতারণা করেছে। দায়ী ব্যক্তি যে হউক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে