ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদন্ড

এফএনএস (রকিবুল হাসান চৌধুরী রুবেল, ময়মনসিংহ) :
| আপডেট: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম | প্রকাশ: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদন্ড

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২১ সালে ময়মনসিংহের তারাকান্দার কলেজ শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ ও দুই মহিলাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তারা হলো একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১) ও শামছুল হক (৪৪), মো. গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম (২৪),  হাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আব্দুল হেলিম (৫১), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)। এছাড়া অপর দুই আসামী মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে ময়মনসিংহের জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. জাকির হোসেন দন্ডপ্রাপ্তদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলো। সে ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোজাখুজির পর না পাওয়া যাওয়ায় ইকবালের পিতা আব্দুর রউফ তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। নিখোজের ৫ দিন পর তারাকান্দা থানার পলাশকান্দা গ্রামের বাঁশঝারের নীচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে গলিত মরদেহ দেখওেত পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। এরপর ৫ জুন ২০২১ তারিখে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এরপর ২০২১ সালের ৬ জুন শাহীনুর আলম ওরফে ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে সন্দেহভাজন একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পুত্র আসিফ রানা নাঈম ওরফে রানাসহ সঙ্গীয়দের আসামী করে একটি হত্য্ ামামলা দায়ের করে। সেলিম মিয়া মামলায় উল্লেখ করেন, তাদের পরিবারের সাথে একই গ্রামের গোলাম হোসেনের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিলো। এরই জেরে এ হত্যাকান্ড। এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদান করেন এবং দীর্ঘ সাক্ষ্য প্রমান শেষে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাতজনের মৃত্যুদন্ডাদেশ ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মহিলাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আদালতে তদন্ত, ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন, যুক্তি-তর্ক-শুননী শেষে আদালত এ রায় দেন। রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম. খালেকুজ্জামান। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান মামলার বাদী সেলিম মিয়া ও তার পরিবার।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে