প্রধান কর্মকর্তা শূন্যতায় দুমকিতে উন্নয়ন স্থবির, সেবা পেতে ভোগান্তি

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
প্রধান কর্মকর্তা শূন্যতায় দুমকিতে উন্নয়ন স্থবির, সেবা পেতে ভোগান্তি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে প্রধান কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে সরকারি সেবা পেতে ভোগান্তির পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমেও স্পষ্ট স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদটি প্রায় এক মাস ধরে শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ ইউএনও ফরিদা সুলতানা গত ২৬ মার্চ বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব ছাড়েন। বর্তমানে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইউএনও রওজাতুন জান্নাত অতিরিক্ত দায়িত্বে দুমকির প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করছেন। তবে সীমিত সময় উপস্থিত থাকায় জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতিনির্ধারণী কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউএনওর অনুপস্থিতিতে ভূমি সেবা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জন্মনিবন্ধনসহ নানা নাগরিক সেবায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়নেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি প্রায় এক বছর ধরে শূন্য। গত বছরের ১৬ জুলাই বদরুন নাহার ইয়াসমিনের বদলির পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার পদটিও দীর্ঘদিন শূন্য। সর্বশেষ কর্মকর্তা কমল গোপাল দে বিদায়ের পর থেকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা জাকির হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। পরিসংখ্যান অফিসেও স্থায়ী কর্মকর্তার অভাব দীর্ঘদিনের। উজ্জ্বল কৃষ্ণ ব্যাপারীর বিদায়ের পর গত তিন বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মশিউর রহমান। এতে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদটিও গত বছরের এপ্রিল থেকে শূন্য রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বিদায়ের পর থেকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে মৎস্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মাকসুদুর রহমান বলেন, “জরুরি কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত না থাকায় কাজের গতি কমে গেছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় দাপ্তরিক সমন্বয়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সেবার মান-উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও রওজাতুন জান্নাত বলেন, “একসঙ্গে দুটি উপজেলা পরিচালনা করতে গিয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেষ্টা করছি।” জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, ইউএনও পদে দ্রুত পদায়নের জন্য বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য শূন্য পদ পূরণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে দুমকির উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে