থামছে না মিরপুরের বুরাপাড়ায় আধিপত্ত্য নিয়ে তান্ডব

এফএনএস (গোলাম কিবরিয়া মাসুম; কুষ্টিয়া): | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
থামছে না মিরপুরের বুরাপাড়ায় আধিপত্ত্য নিয়ে তান্ডব

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া গ্রাম। আওয়ামী আমলে এই গ্রামে ছিলো জাসদের দাপট। জাসদের নেতাকর্মীদের অত্যাচার ও ক্ষমতার দাপটের কাছে এক প্রকারের জিম্মি ছিলো এলাকার মানুষ। ৫ আগস্টের পরে সেই সব জাসদ নেতাকর্মীরা বনে গেছে বিএনপি নেতাকর্মী। লেবাস পাল্টালেও বিএনপির সেল্টারে এখনো গ্রাম্য আধিপত্ত্য টিকিয়ে রাখতে তান্ডব চালাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপরে। সাম্প্রতি বাচ্চাদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তান্ডব শুরু করেছে বিএনপির ছত্রছায়ায় থাকা জাসদের ঐসব নেতাকর্মীরা। তাদের ভয়ে থমকে গেছে ঐ এলাকার সাধারণ মানুষের জনজীবন এমনটাই অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। শুধু এলাকাবাসী নয়, বুরাপাড়ায় বিএনপি নামধারী জাসদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখন রাজপথে আন্দোলন ও বিক্ষোভ করছে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বুরাপাড়া এলাকায় শিশুদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাচ্চাদের মধ্যে মারামারি হয়। পরে সে ঘটনার জের ধরে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পক্ষ্যের পক্ষ থেকে মিরপুর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দেয়। পরদিন শুক্রবার বিকেলে ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১জনকে গ্রেফতার করে মিরপুর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৯জন জামায়াতের নেতাকর্মী এবং ২জন বিএনপির সমার্থক বলে স্ব-স্ব দল থেকে জানানো হয়। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আরো উত্তেজনা বেড়ে যায়, হামলা এবং হুমকি প্রকাশ্যে রূপ নেয়। পৃথক দুটি মামলা হলেও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এর অভিযোগ তুলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

সরেজমিনে ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় বেশিরভাগ বাড়ীতেই হামলা-মামলার ভয়ে পুরুষশুন্য। নারীরাও বাড়ীর বাইরে ঠিকমতো বের হতে পাচ্ছে না। পুলিশ এসে নারীদেরও হয়রানি এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের নামে রান্না ঘর থেকে বটিও নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে নারীরা। এলাকায় এক থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে মামলার বাদী হাবিবুর রহমান জানান, বাচ্চারা ফুটবল খেলাকে নিয়ে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কা-ধাক্কি করে। পরে আক্তার আলী এবং আক্তার আলীর স্ত্রীসহ জাসদের লোকজন নিয়ে আমার বাড়ীতে এসে আমার ছেলেকে মারধর করে। আমার স্ত্রী ঠেকাতে গেলে আমাকেসহ মারধর করে। এ ঘটনায় আমি ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাচ্ছি।

তিনি বলেন, জাসদ এবং আওয়ামী লীগের লোকজন এখন বিএনপি হয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করছে। প্রশাসন তদন্ত ছাড়াই আমাদের লোকজনকেই গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু আমার মামলায় কাউকে গ্রেফতার করেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে চিহ্নিত এবং পদধারী জাসদের লোকজন এখন বিএনপি হয়ে এলাকায় আবার আগের মতো ত্রাসের রাজত্ব করতে চাচ্ছে। এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তার উপরে হামলা করছে, বাড়ীঘর ভাংচুর করছে। নারী ও শিশুদের বাড়ী থেকে বের হওয়ার উপায় নেই তাদের কারণে। আমরা চাই এলাকায় শান্তি ফিরে আসুক।

ভুক্তভুগি পরিবারের নারীরা জানায়, যারা আমাদের উপরে হামলা করছে আবার তারাই পুলিশ পাঠাচ্ছে বাড়ীতে। পুলিশ এসে যাকে পাচ্ছে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি রান্না ঘর থেকে তরকারী কাটার বটি, হাসুয়া নিয়ে গিয়ে বলছে এসব দিয়ে মারামারি করিস। তাই সেগুলো নিয়ে গেছে পুলিশ। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। স্থানীয় বাসিন্দা এবং আমলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নাসিম রেজা মুকুল জানান, বিএনপির ছত্রছায়ায় থাকা জাসদের সন্ত্রাসী এবং জাসদ গণবাহীনির অত্যচারে এলাকার সাধারণ মানুষ এখন কোনঠাসা অবস্থায় আছে। দফায় দফায় লোকজনের বাড়ীতে হামলা, লুটপাট করছে তারা। ৫ আগস্টের পরে এই এলাকায় ৩-৪টা সহিষ্ণ ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি ও জাসদের নেতাকর্মীরা। জামায়াতের একজনকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। তাদের কারণে আমাদের এলাকার মানুষের এলাকায় বসবাস করা দায় এবং নিরাপত্তাহীন। প্রশাসন যদি পদক্ষেপ না নেয় তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এলাকার সার্বিক চিত্র প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা কার্যকারী কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা চাই দ্রুত সমাধান হোক এবং সবাই শান্তিপূর্নভাবে যাতে বসবাস করতে পারে। মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান জানান, শুক্রবার সকালে এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পরে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সেখানে গিয়ে যাকে পেয়েছে তাকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে দুইজন বিএনপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে ঐ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ওমর ফারুক জানান, বাচ্চাদের খেলা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নামধারী জাসদের নেতাকর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মী এবং সমার্থকদের উপরে প্রতিনিয়ত হামলা করছে, মারধর করছে। সেই সাথে জামায়াতের নামে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছে।   মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। উক্ত এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে