নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর এলাকার কাজীপাড়া মাথুর ডাঙ্গা মাঠের বাসিন্দা অসহায় নারী আমেনা বেগম। তার বয়স চলছে প্রায় ৭৬ বছর। স্বামী সফিক আলী মারা গেছেন ১৫ বছর আগে। রেখে গেছেন চার ছেলে এক মেয়ে । ছেলে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মা আর দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের বড় করেছেন। এখন তারা বিয়ে হয়ে অন্যত্র থাকছেন। স্ত্রী নিয়ে তারা অন্যত্র বসবাস করলেও বৃদ্ধা মায়ের প্রতি তাদের কোন সহানভুতি নেই। মা না খেয়ে থাকলেও সন্তানরা কোন খবর রাখেন না। মা যে ঘরে থাকেন সেই ঘরে নেই চাল। এক কক্ষে টিন থাকলেও তা দিয়ে পানি চুয়ে পড়ে। তার সাথে ঘরে নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ। মানসিক এক ছেলেকে নিয়ে মা থাকেন ওই বিদ্যুৎ বিহীন ভাঙ্গাচূড়া ঘরে। মানসিক ওই ছেলে ভিক্ষে করে যা পায় তা দিয়েই দিন কাটে। মা কোরআন তেলাওয়াত করেন, নামাজ আদায় করেন ওই অন্ধকার ঘরে। তবুও দুর থেকে পাষান্ড সন্তানদের জন্য মা দোয়া করেন তাদের যেন আল্লাহ ভাল রাখেন, সুস্থ রাখেন,সুখে রাখেন। এই হলেন মা, যে সন্তান একমুটো ভাত মায়ের মুখে তুলে দিতে পারে না আর সেই সন্তানের জন্য মা চোখের পানি ফেলে দোয়া করেন আল্লাহর কাছে।
আজ ওই মা দিশেহারা হয়ে ক্ষুধার জ্বালায় মানবিক সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সমাজপতিদের প্রতি সাহায্য চেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে চলা এই নারী বর্তমানে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,আমেনা বেগমের স্বামী ১৫ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি কোনোভাবে দিন পার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খাবার, চিকিৎসা এবং বাসস্থানের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। আমেনা জানান,অনেক চেষ্টা করেও আমি কোনো স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে পারিনি। আমার পাগল সন্তান সাহিদকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমার পাশে দাঁড়ান।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম জানান, আমেনা দীর্ঘদিন ধরেই অভাব-অনটনের মধ্যে রয়েছে। তারা প্রশাসন ও সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজপতিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে এসে আমেনার পাশে দাঁড়ান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।