ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা

এফএনএস (এইচ এম জোবায়ের হোসাইন; ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা

নিজের চাষকৃত জমির ধান দেখতে গিয়েছিলেন মোতালেব হোসেন (৫৫)। এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে উপর্যপুরি কুপিয়ে হত্যা করে ধান খেতের আইলে ফেলে রেখে যায়। এসময় স্থানীয় হোগাইল বিলে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় নিহতর ছেলে, ভাগিনা ও নাতি খেতের আইলে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে মরদেহ শনাক্ত করে। জাতীয় জুরুরী সেবায় তথ্য দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মহদেহ উদ্ধার করে। তবে মোতালেব হোসেনর সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ফেলে রেখে যায়। নিহত মোতালেব হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত মাইনুল্লাহ শেখের ছেলে। তবে হত্যাকাণ্ডের কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। গত মঙ্গলবার রাতে (২৮ এপ্রিল) ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের বামনাখালি মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত মাইনুল্লাহ শেখের ছেলে মোতালেব হোসেন বোরো ধানের আবাদ করেছেন অনেকটা জমি জুড়ে। ইতিমধ্যেই মাঠের সবগুলো ক্ষেতের ধান পেকে গেছে। চলছে ধান কাটা। প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার বিকেলেও পাকা ধানের ক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মোতালেব। দেরি হাওয়ায় বাড়ির লোকজন ভেবেছিলেন হয়তো কোথাও বসে তিনি আড্ডা দিচ্ছেন। এজন্য কেউ কোন খোঁজ খবরই নেই নাই।  এদিকে বাড়ির অদূরে হোগলাই বিল। ওই বিল থেকে প্রতিদিন তাদের বাড়ির লোকজন মাছ ধরেন। এদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে তার ছেলে, নাতি, ভাগিনা ও ভাই মুঞ্জুরুল যাচ্ছিলেন বিলে মাছ ধরতে। পথিমধ্যে একটি ধান ক্ষেতে মোতালেব এর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার মাথায় ও ঘাড়ে কোপের আঘাত ছিল। বিষয়টি ত্রিশাল থানা পুলিশকে অবগত করেন তার স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কোন কারণ এখনো জানতে পারেনি। নিহতের ছেলে আলী হোসেন বলেন, বাবা মাগরিবের নামাজের আগে বাড়ি থেকে ধানক্ষেত দেখতে বের হন। তিনি প্রায়ই জমি দেখতে যেতেন। এদিন কে বা কারা আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর মরদেহের পাশে তার মোবাইল ফোন পড়ে ছিল এবং কোমরে বাঁধা কাপড়ের থলেতে থাকা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকা অক্ষত ছিল।

 ত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের কোন কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল সেট ও শরীর তল্লাশি করে একটি থলের ভেতর থেকে ৩৮ হাজার ৬শ টাকা পাওয়া গেছে। ঘটনার কারণ শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে গেছে। তবে সঙ্গে থাকা টাকা না নেওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে