অর্থনীতিক ভঙ্গুরতা

বাস্তব নীতি ও সময়োপযোগী উদ্যোগ জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ৫ মে, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
বাস্তব নীতি ও সময়োপযোগী উদ্যোগ জরুরি

অর্থনীতির চাকা থেমে যাওয়ার শঙ্কা এখন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে; নতুন বিনিয়োগ শূন্যের কোটায়, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, আর শিল্প ও কৃষি- দুই খাতই টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, যার ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং অর্থনৈতিক চাকা ধীরগতিতে ঘুরতে থাকে। তাই এখনই দরকার মধ্যবিত্তকে লক্ষ্য করে বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী নীতি গ্রহণ, নইলে পুনরুদ্ধার কল্পনাও কঠিন হবে। প্রথমত, আয়ের হাতে অবশিষ্ট অংশ বাড়ানো জরুরি। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো এবং মধ্যবিত্তের জন্য ট্যাক্স রিবেট বা ক্রেডিট চালু করলে তাদের হাতে খরচের জন্য বেশি অর্থ থাকবে। বিশেষভাবে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে করছাড় দিলে পরিবারগুলো তাদের সঞ্চয় অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে। করপ্রণালীকে সহজ ও স্বচ্ছ করে করদায়িত্বের বোঝা সুষমভাবে বণ্টন করা প্রয়োজন; অস্থায়ী রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য মধ্যবিত্তকে অতিরিক্ত ট্যাক্সে কষ্ট দেওয়া দেশের স্বার্থে নয়। দ্বিতীয়ত, ঋণ ও আর্থিক সুরক্ষা শক্তিশালী করা দরকার। স্বল্প সুদে গৃহঋণ, শিক্ষার জন্য কনজিউমার ক্রেডিটে সহায়তা এবং জরুরি সময়ের জন্য টার্গেটেড নগদ সহায়তা বা ভর্তুকি প্রণালী মধ্যবিত্তকে স্থিতিশীল রাখবে। ব্যাংকিং সেক্টরে ছোট ঋণের শর্ত সহজ করে, ডিজিটাল লেনদেন ও ক্রেডিট স্কোরিং উন্নত করলে ঋণপ্রবাহ দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ভাঙার প্রবণতা কমাতে বিকল্প বিনিয়োগ সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস বাড়ানো- এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের মূল। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (ঝগঊ) ও স্টার্টআপে করছাড়, অনুদান ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করে মধ্যবিত্তের আয় বাড়ানো যাবে; ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল সার্ভিস ও রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা দিলে বৈদেশিক আয়ও বাড়বে। সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে বাজেট বাড়ালে কর্মবাজারে নমনীয়তা আসবে। চতুর্থত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহশৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য। খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কৃষিতে সেচ, বীজ ও সার সহায়তা বাড়াতে হবে; স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে। বাজারে মূল্য মনিটরিং, কৃত্রিম সংকট রোধ ও জালিয়াতি দমন করে ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচ কমাতে লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা মনে করি, বাজেট ও নীতিতে মধ্যবিত্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, স্বাস্থ্যবীমায় সরকারি ভর্তুকি, স্বল্প সুদে গৃহঋণ ও ঝগঊ প্রণোদনা অন্তর্ভুক্ত করলে তা সরাসরি মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পুনরুজ্জীবিত করবে। এসব পদক্ষেপ কেবল মধ্যবিত্তকে রক্ষা করবে না; বাজারে চাহিদা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করবে। মধ্যবিত্তকে শক্ত করে তুললেই দেশের অর্থনীতির চাকা আবার গতিতে ফিরবে। এখন সময় সাহসী, লক্ষ্যভিত্তিক ও বাস্তব নীতির- নইলে সঞ্চয়হীন, ঋণগ্রস্ত মধ্যবিত্তই দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে